[english_date], [bangla_date]

জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতির মামলা : ১৭ এপ্রিল খালেদা আদালতে না গেলে ব্যবস্থা

Friday, 08/04/2016 @ 11:35 am

 নিউজ ডেস্ক : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় আত্মপক্ষ শুনানি জন্য আগামী ১৭ এপ্রিল বিএনপির চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়া আদালতে না গেলে আইন অনুয়ায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার মামলাটিতে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আত্মপক্ষ শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন তিনি অসুস্থ মর্মে তার উপস্থিতির জন্য সময় প্রার্থনা করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুর রেজ্জাক খান।

ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদার সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে এ আইনজীবীকে বলেন, ‘ওইদিন (১৭ এপ্রিল) না এলে কি হবে তা তো বোঝেন, আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা অর্থাৎ ওইদিন খালেদা জিয়া আদালতে না গেলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আত্মপক্ষ শুনানি শেষ করতে পারেন।
এদিকে খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হলেও মামলার অপর দুই আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। তারা আত্মসপক্ষ শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং আগামী ১৭ এপ্রিল তাদের পক্ষে আত্মপক্ষ শুনানির সমর্থনে লিখিত বক্তব্য প্রদান করবেন বলে জানান।

অন্যদিকে এদিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায়ও সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এ মামলায় খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে সময়ের আবেদন আদালত মঞ্জুর করলেও সাক্ষ্য গ্রহণ পেছানোর আবেদন না মঞ্জুর করে সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন।

এদিন মামলাটির বাদী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন অর রশিদকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আব্দুর রেজ্জাক খান জেরা করেন। প্রায় এক ঘণ্টা জেরার পর তা শেষ না হওয়ায় আগামী ২১ এপ্রিল পরবর্তী দিন ধার্য করেন বিচারক।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এ মামলায় ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়। মামলাটিতে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠন করা হয়।

এতে বিএনপি নেতা সচিব হারিছ চৌধুরী এবং তার তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আসামি।

অন্যদিকে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ মামলাটি দায়ের করে দুদক।

২০০৯ সালের ৫ আগস্ট দুদক আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে আসামি করা হয়।