[english_date], [bangla_date]

জিরা-পানির যত উপকারিতা

Monday, 07/11/2016 @ 5:49 am

নিউজ ডেস্ক : মসলা হিসেবে জিরার গুণের কথা সবারই জানা। রান্না করা খাবারকে সুস্বাদু ও সুগন্ধি করতে জিরার জুড়ি নেই। স্বাস্থ্যকর মসলা হিসেবে জিরা সমাদৃত। কিন্তু এর বাইরেও জিরার কিছু গুণ আছে। বিশেষ করে জিরা-পানি বা জিরা-চা ওজন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যাঁরা প্রাকৃতিক উপায়ে ওজন কমাতে চান, তাঁদের জন্য জিরা-পানি উৎকৃষ্ট উপাদান। গবেষকেরা বলেন, শরীরের ক্ষতিকর চর্বি ও অস্বাস্থ্যকর কোলস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ওজন কমাতে এটি সহায়তা করে।
ভালো হজম হয়
জিরায় আছে থাইমলসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তেল, যা লালাগ্রন্থিকে উদ্দীপ্ত করে খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। এ ছাড়া হজমপ্রক্রিয়ার দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতেও সহায়তা করে জিরা। যাঁরা এ ধরনের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা জিরা-চা খেতে পারেন। কলার সঙ্গে জিরা মিশিয়ে খেলেও উপকার পাওয়া যায়। কারণ, কলাও ওজন কমাতে সহায়তা করে।
ওজন কমাতে জিরা-চা
জিরা-চা বানানোর নিয়ম হচ্ছে এক চামচ জিরা এক গ্লাস পানির মধ্যে মিশিয়ে সেদ্ধ করতে হবে। পানি ফুটে বাদামি রং হলে জাল বন্ধ করে পাত্রটি ঢেকে রাখতে হবে। এরপর ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। হালকা পেটব্যথা কিংবা ভালো হজমের জন্য দিনে তিনবার এ চা খেতে পারেন। যাঁরা আরেকটু হালকা চা খেতে চান, তাঁরা গরম পানিতে জিরা মিশিয়ে ঢেকে রাখতে পারেন। এরপর কিছুটা থিতিয়ে সে চা খেতে পারেন। এ ছাড়া পানির ভেতর দুই চামচ জিরা মিশিয়ে সারা রাত রেখে দিতে পারেন। সকালে ওই পানি ফুটিয়ে খেতে পারেন। ভেজানো জিরা চিবিয়ে খেতে পারেন। এতে শরীরের চর্বি দূর হবে।
খাবারে জিরা
শরীরের চর্বি কমাতে খাবারে জিরার পরিমাণ কিছুটা বাড়াতে পারেন। এ ছাড়া ওজন কমাতে অল্প পরিমাণ দইয়ের মধ্যে জিরা দিয়ে কিংবা মধুর সঙ্গে জিরা মিশিয়ে খেতে পারেন। স্যুপ তৈরি বা বাদামি ভাত রান্নাতেও হালকা জিরা গুঁড়া দিতে পারেন। ওজন কমাতে রসুন আর লেবুর গুণের কথা অনেকেই জানেন। গাজরসহ অন্যান্য সবজি একত্রে সেদ্ধ করুন। এতে রসুনবাটা ও লেবুর রস দিতে পারেন। তারপর কিছুটা জিরার গুঁড়া ছিটিয়ে দিন। প্রতিদিন রাতে খেলে ওজন কমবে।
ক্যানসার প্রতিরোধে
বিশেষজ্ঞরা বলেন, জিরার মধ্যে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা মেটাবলিজম বাড়ায় এবং পেটের চর্বি কমায়। যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনার হিলটন হেড আইল্যান্ডের ক্যানসার রিসার্চ ল্যাবরেটরির তথ্য অনুযায়ী, ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়ার উপাদান আছে জিরাতে। এতে কুমিনঅ্যালডিহাইড নামের উপাদান আছে, যা টিউমারের বৃদ্ধি ঠেকাতে পারে। এর পটাশিয়াম শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখে। এটি উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও সাহায্য করে।
জিরা-পানিতে গোসল
শরীরে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে বা চুলকানি মনে হলে জিরা দিয়ে পানি সেদ্ধ করে তা ঠান্ডা করুন। এরপর সেই পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন। জিরার গুণের জুড়ি নেই। রান্নাবান্নায় মসলা হিসেবে জিরার ব্যবহার অনেক দিন ধরেই। জিরার স্বাস্থ্যকর অনেক গুণাগুণ আছে। সবচেয়ে বড় কথা, ক্যানসার নিরাময়ে ভূমিকা রাখে জিরা। এ ছাড়া হাঁপানি (অ্যাজমা) প্রতিরোধেও জিরার ব্যবহার রয়েছে। হজমের জন্য জিরা ভালো। খাবারে জিরা যোগ করার জন্য এর বিশেষ গুণ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জিনিউজ।

১. জিরার জুস বেশ উপাদেয়। প্রতিদিন এক গ্লাস করে জিরার জুস খেলে হজম ভালো হয়।
২. আয়রন বা লৌহের ভালো একটি উৎস জিরা। তাই গর্ভাবস্থায় ও সদ্য মা হওয়া নারীদের জন্য জিরা উপকারী।
৩. জিরা ঠান্ডা ও অ্যাজমা প্রতিরোধ করতে পারে। এতে আছে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক প্রতিরোধী উপাদান।
৪. যাঁদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে, তাঁরা নিয়মিত জিরা খেতে পারেন। এটি প্রাকৃতিক রেচক।
৫. ব্রণ প্রতিরোধে জিরার কার্যকর ক্ষমতা রয়েছে। এটি ব্রণের প্রাকৃতিক ওষুধ। প্রতিদিন সেদ্ধ জিরা-পানি ব্যবহারে ত্বক ব্রণমুক্ত ও সুন্দর হয়।