[english_date], [bangla_date]

হিট স্ট্রোক কি এবং করণীয়

Wednesday, 24/05/2017 @ 1:34 am

hitনিউজ ডেস্ক : গ্রীষ্মে প্রচন্ড দাবদাহে যে সকল স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি হয় তন্মধ্যে হিট স্ট্রোক অন্যতম। পর্যাপ্ত জ্ঞানের ও সাবধানতার অভাবে এটির আগমন হলে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তবে চলুন হিট স্ট্রোকে সম্পর্কে একটু জেনে নেয়া যাক।
** হিট স্ট্রোক কী এবং কেন হয়? **
গ্রীষ্মে পরিবেশের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। আশেপাশের তাপমাত্রা ঋতু পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হলেও আমাদের দেহের যে অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা আছে তা নির্দিষ্ট। ঋতু পরিবর্তনের সময় তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে দেহ চেষ্টা করে তার অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা অপরিবর্তিত রাখতে। গ্রীষ্মের গরমে আশেপাশের তাপমাত্রা বেড়ে গেলেও দেহ তার নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখার জন্য ঘাম নিঃসরণ করে। ঘাম বাষ্পীভূত হয়ে শরীরকে শীতল করে। আর্দ্রতা বাড়লে শরীর গরম হয়ে যায় আর ঘামের বাষ্পীভূত যাওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে দেহের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে অর্থাৎ শরীর গরম হয়ে যায় এবং শরীর গরম হলেই হিট স্ট্রোক হয়। দেহের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী (১০৪ ফারেনহাইট) হয়ে গেলে মারাত্মক হিট স্ট্রোকের আশংকা থাকে। মাঝে মাঝে দেহের তাপমাত্রা বেড়ে ১০৬ ফারেনহাইটের কাছাকাছিও হয়ে যেতে পারে!
** হিট স্ট্রোক যাদের আক্রমণ করে – **
• হিট স্ট্রোকে মূলত শিশু এবং বৃদ্ধরা আক্রান্ত হয়।
• প্রচন্ড রোদে অনেক্ষণ কাজ করলে বা রোদে চলাফেরা করলে হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা থাকে।
• ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
• যারা হার্ট, কিডনি বা ফুসফুসের সমস্যায় ভোগে তারাও হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারে।
• কিছু রোগের ক্ষেত্রে হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেশি থাকে। এর মাঝে রয়েছে স্ক্লেরোডার্মা, একটোডার্মাল ডিসপ্লেসিয়া জাতীয় চর্মরোগ।
• কিছু ওষুধ গ্রহণকারীর ক্ষেত্রে হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা থাকে। যেমন- অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যাসপিরিন, মানসিক রোগের ওষুধ।
• যাদের ওজন বেশি তারা সঙ্গত কারণেই হিট স্ট্রোকের শিকার হয়ে থাকেন।
** হিট স্ট্রোকের লক্ষণ: **
হিট স্ট্রোকের লক্ষণ অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের কিছু লক্ষণের মত হয়ে থাকে। অনেক সময় ব্যাক্তি হিট স্ট্রোকের পূর্বে হার্ট এক্সশনের লক্ষণ অনুভব করতে পারে। নিম্নে হিট স্ট্রোকের সাধারণ লক্ষণগুলো সম্পর্কে আলোকপাত করা হল –
• বমি বমি ভাব
• ক্লান্তি
• বমি করা
• দুর্বলতা
• মাথা ব্যাথা
• মাসল ক্র্যাম্পস
• অবসন্নতা
• দেহের উচ্চ তাপমাত্রা
• শ্বাসকষ্ট
• ঘাম না হওয়া এবং ত্বকের বর্ণ লালচে হয়ে যাওয়া
হিট স্ট্রোকের উচ্চতর পর্যায়ে ব্যাক্তির মধ্যে বিভ্রম, হ্যালুসিনেশন, পালস রেট বেড়ে যাওয়া প্রভৃতি লক্ষণ দেখা যেতে পারে। শরীরের রক্ত জমাট বাধার ক্ষমতা হ্রাস পায় ও বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। হিট স্ট্রোকের কিছু উপসর্গ বিভিন্ন রোগ যেমন- সেরিব্রাল ম্যালেরিয়া, মেনিনজাইটিস, সেপটিসেমিয়া, ধুতরার বিষক্রিয়া ইত্যাদির সাথে মিল রয়েছে। হিট স্ট্রোকের ফলে ব্যাক্তি কোমাতেও চলে যেতে পারে। তাই হিট স্ট্রোক ও রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতার প্রয়োজন।
** হিট স্ট্রোকের প্রতিকার: **
হিট স্ট্রোক হলে রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। বাড়িতে তাকে ঠান্ডা পরিবেশে রাখতে হবে। রোদ থেকে অবশ্যই দূরে রাখতে হবে। রোগীকে এয়ার কন্ডিশন্ড রুমে রাখতে পারলে ভালো হয়। সারা শরীর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুছে দিতে হবে। যেকোন উপায়ে শরীরের তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা করতে হবে। রোগীর নাক, মুখ পরিষ্কার রাখতে হবে যাতে শ্বাসপ্রশ্বাসে অসুবিধা না হয়। হিট স্ট্রোক হলে দেহে পটাশিয়াম কমে যায় ফলে এক্ষেত্রে রোগীকে স্যালাইন দেয়া কার্যকরী। গুরুতর অবস্থায় রোগীকে অবশ্যই হাসপাতালে নিতে হবে। তবে রোগীকে যাতে অ্যাসপিরিন না দেয়া হয় এদিকে লক্ষ রাখতে হবে কারণ এটি রক্তক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়।
** হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ: **
হিট স্ট্রোক থেকে রক্ষা পেতে নিম্নোক্ত বিধি অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয় –
• প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
• রোদ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। রোদে কাজ করতে হলে কাজের ফাঁকে ফাঁকে পানি পান করুন এবং রোদে বের হলে ছাতা ব্যবহার করুন।
• কিছু পানীয়, যেমন – অ্যালকোহল, চা, কোমল পানীয় প্রভৃতি পরিহার করুন।
• দিনে দু’বার গোসল করতে পারেন।
• ঢিলেঢালা হাল্কা রঙের সুতির কাপড় পরিধান করুন।
হিট স্ট্রোককে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত না। একটু অবহেলাও মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। তাই গরমে হিট স্ট্রোক প্রতিরোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।