[english_date], [bangla_date]

ঈদ বাজারে অতিরিক্ত ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা লেনদেন

Friday, 09/06/2017 @ 4:38 pm

নিউজ ডেস্ক : ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হলো দুই ঈদ। বড় এই ধর্মীয় উৎসব ঘিরে খাদ্যপণ্য, পোশাক, বিনোদন ও পরিবহন খাত চাঙা হয়ে ওঠে। এবার ঈদও এর ব্যতিক্রম হবে না। পবিত্র রমজান ও ঈদ ঘিরে দেশের অর্থনীতিতে টাকার প্রবাহ বাড়ছে। অন্য যেকোনো মাসের তুলনায় এ মাসে যোগ হচ্ছে অতিরিক্ত আরও ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন। এর পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবী, দোকান কর্মচারী, পোশাক ও বস্ত্র খাতের শ্রমিকসহ বিভিন্ন ধরনের শ্রমজীবীদের বোনাসও এই কর্মকান্ডে যোগ হবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চিরায়ত এ উৎসবকে ঘিরে বিভিন্ন খাতে বিপুল অংকের অর্থ ঘন ঘন হাতবদল হওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড যেমন বাড়বে, তেমনি চাঙা হয়ে উঠবে গোটা অর্থনীতি। প্রথম রমজান থেকে শুরু হওয়া এ কর্মকান্ড চলবে গোটা রমজান মাসজুড়ে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা সংস্থার (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. এম কে মুজেরী বলেন, ঈদে টাকার প্রবাহ সবচেয়ে বেশি বাড়ে- এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এ টাকার ব্যবহার পোশাক, ভোগ্যপণ্য, শৌখিনতা ও ভ্রমণসহ বিনোদনমুখী খাতেই বেশি হচ্ছে। কাজেই এটা একটা বড় ভ‚মিকা রাখে অর্থনীতিতে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উৎসব অর্থনীতির আকার, ধরন ও ব্যাপ্তি আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। মানুষ এ উৎসবকে ঘিরে প্রচুর পরিমাণ অর্থ খরচ করে। এতে উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, ব্যবসায়ী প্রত্যেকে কিছু না কিছু লাভবান হচ্ছেন। সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের হিসাবে দেশের মোট অর্থনীতির আকার হচ্ছে সাড়ে ১৯ লাখ কোটি টাকা। রোজা ও ঈদ উৎসবের অর্থনীতি নিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সমীক্ষা অনুসারে, রোজায় অতিরিক্ত ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন যোগ হচ্ছে।
সমীক্ষার হিসাব মতে, রোজার মাসে ইফতার ও সেহেরিতে যোগ হচ্ছে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। পোশাকের বাজারে যোগ হচ্ছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা। রমজান ও ঈদে অ্যাপায়ন বাবদ অর্থাৎ ভোগ্যপণ্যের বাজারে বাড়তি যোগ হচ্ছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। ধনীদের দেয়া জাকাত ও ফিতরা বাবদ আসছে ৬৭ হাজার কোটি টাকা। পরিবহন খাতে অতিরিক্ত যাচ্ছে ৭০০ কোটি টাকা। ঈদকে কেন্দ্র করে ভ্রমণ ও বিনোদন বাবদ ব্যয় হয় ৫ হাজার কোটি টাকা।
এর বাইরে আরও কয়েকটি খাতের কর্মকান্ডে টাকার প্রবাহ বাড়বে। এর মধ্যে রয়েছে সাড়ে ১২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী, ৬০ লাখ দোকান কর্মচারী, তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের ৭০ লাখ শ্রমিকের বোনাস; যা ঈদ-অর্থনীতিতে আসছে। এ ছাড়া আরও রয়েছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের টাকা। ঈদের সময়ে প্রবাসীরা তাদের আত্মীয়স্বজনের কাছে বাড়তি ব্যয় মেটাতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে থাকেন। অন্যদিকে রোজা ও ঈদকে ঘিরে অর্থনীতিতে আরও যোগ হবে মানুষের সঞ্চয়ের টাকা। সারা বছর মানুষ যে সঞ্চয় করে রোজার সময়ে বাড়তি ব্যয় মেটাতে তার একটি অংশ তারা খরচ করে থাকেন। যে কারণে রোজার শেষ সময়ে এসে ব্যাংকে নগদ টাকার সঙ্কট দেখা দেয়। কারণ, ওই সময়ে গ্রাহকরা তাদের জমা টাকা তুলে নেন। ফলে বেড়ে যায় কলমানির সুদের হার। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্র ও ডিপিএস হিসাব ভাঙিয়েও অনেকে ঈদের বাড়তি খরচ মেটান।
এ প্রসঙ্গে মিরপুরে বেনারসি পল্লীর ব্যবসায়ী নেতা মো. হানিফ বলেন, রোজা ও ঈদকে সামনে রেখে কয়েকশ’ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে এ মার্কেটে। ব্যবসায়ীরা নিজস্ব অর্থ, ব্যাংক ঋণসহ অন্যান্য উৎস থেকে অর্থ এনে এখন বিনিয়োগ করছেন।