[english_date], [bangla_date]

রাবি ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন

Wednesday, 21/06/2017 @ 6:12 am

নিউজ ডেস্ক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। গত রোববার ওই পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয় বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু। এদিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে শিবির, ছাত্রদল, অছাত্র, বিবাহিত, চাঁদাবাজ- ছিনতাইয়ের সাধে জড়িত একাধিক নেতা পদ পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রলীগের একাধিক নেতা। এছাড়া সম্মেলন পরবর্তী নবগঠিত ১১ সদস্যদের কমিটির নেতাদেরকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তলানিতে রাখা হয়েছে। ফলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে ব্যাপক সমলোচনা চলছে ছাত্রলীগের মধ্যেই।
সাধারণ সম্পাদক রুনু জানান, ১৫১ সদ্যের কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে ৪২ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ১০ জন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ১০ জন, প্রচার সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদকসহ বিভিন্ন সম্পাদক পদে ৩২ জন ও উপ-সম্পাদক পদে ৩২ জন, সহ-সম্পাদক পদে ১৩ জন এবং সদস্য হিসেবে ১২ জনকে পদ দেয়া হয়েছে।
পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সভাপতি পদ পেয়েছেন সভাপতির ঘনিষ্ঠ ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের মাহফুজুর রহমান এহসান। সে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল। ছাত্রদলের রাজনীতি করার সময় নাশকতার মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে গ্রেফতার হয়ে প্রায় তিন মাস জেলও খেটেছেন। এছাড়াও নিজ বিভাগের ছাত্রীর করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি এহসান। ওই ছাত্রী এহসানের বিরুদ্ধে মতিহার থানায় জিডি ও রাবির যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ সেলে লিখিত অভিযোগ দেয়। ছাত্রদল ও নারী নির্যাতন মামলা থেকে বাঁচতে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করে এহসান। ছাত্রলীগে এসেও অপহরণ করে চাঁদাবাজির দায়ে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার হয় সে।
কমিটিতে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন অরেক বিতর্কিত সাইফ করিম রুপম। সে সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার ঘনিষ্ঠ সহচর। বগুড়ার ছেলে রুপম ৫ জানুয়ারি আগে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধীতা করে ছাত্রদলের নিয়মিত মিছিল সমাবেশে সক্রিয় ছিল। অথচ রাবি ছাত্রলীগে প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে এখন তার অবস্থান। রাবির ম্যাটেরিয়াল সায়েন্সে ২০১১-১২ সেশনে ভর্তি হলেও দুই বছর আগে ড্রপ আউট হয়ে ছাত্রত্ব হারিয়েছে রুপম। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার পদ পাওয়া কথা নয়। অথচ তার নাম সহ-সভাপতির তালিকায়। তার মতই ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে ড্রপ আউট হয়েও কমিটিতে সহ-সভাপতি-২ পদ পেয়েছেন সুরঞ্জিত প্রসাদ বৃত্ত।
কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি করা হয়েছে মাহফুজ আল আমিনকে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তার অভিযোগ। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে পূর্বে শিবিরের সঙ্গে লিঁয়াজো করার। পরবর্তীতে কিবরিয়া-রুনু কমিটি হওয়ার পর হঠাৎ ছাত্রলীগে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। দলে হাইব্রিড বলে পরিচিত মাহফুজ আল আমিন।
সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর ঘনিষ্ঠ আইনের শিক্ষার্থী সাদ্দাম হোসেন সজীব। সে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক-১ হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২০১৩ বঙ্গবন্ধু হল থেকে ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০১৫ সালে তুচ্ছ কারণে গণশিল্পী সংস্থার রাবি শাখার সভাপতি বাসুদেবকে পিটিয়ে পা ভাঙার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার হয় সজীব। পরে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রশাসনের মাধ্যমে তা প্রত্যাহার করিয়ে নেয় ছাত্রলীগ।
রুনুর অনুসারী সহ-সভাপতি পদ পাওয়া আবু খায়ের মোস্তফা রিনেট ছাত্রদল কর্মী ছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর হাত থেকে ফুল নিচ্ছেন এমন ছবিও গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। রুনুর আরেক ঘনিষ্ঠ সহচর সহ-সভাপতি এরশাদুর রহমান রিফাত চাঁদাবাজির দায়ে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার হন। ২০১৫ সালে ঢাকা থেকে রাবিতে বেড়াতে আসা এক শিক্ষার্থীকে জোর করে বিয়ে দিয়ে ২৪ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের নেতৃত্ব দেয় রিফাত। আরো একজন সহ-সভাপতি দর্শন বিভাগের রবিউল আওয়াল মিল্টন নিজ বিভাগের ছাত্রীকে যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান। একটি জাতীয় দৈনিকের রাবি প্রতিনিধিকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া বিতর্কিত অন্যদের মধ্যে সাংগঠনিক সম্পাদক মুশফিক তাহমিদ তন্ময় মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছিল, আরিফ বিন জহির ও রেজয়ানুল হক হৃদয় দলীয় কর্মীকে মারধর করায় দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন।
এদিকে ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর সম্মেলনের মাধ্যেমে সভাপতি-সম্পাদকসহ ১৩ সদস্যের প্রাথমিক কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কিন্তু গত রোববার ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাদেরকে মান অবনতি করে নিচের দিকে রাখা হয়েছে।

সহ-সভাপতি কাজী আমিনুল হক লিংকন বলেন, আমি সম্মেলন পরবর্তী কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি নিযুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার সময় আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি-সম্পাদক ষড়যন্ত্র করে ১৮ নম্বর সহ-সভাপতি করেছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে জানিয়েছি, তারা এব্যাপারে সমাধান দিতে চাইছে।

এব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, এখানে গঠনতন্ত্রের কোন লঙ্ঘন করা হয়নি। আমাদের মত করে কেন্দ্রের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন করিয়েছি, আর তাছাড়া তাদেরকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ২৫তম সম্মেলনের পর ১১ ডিসেম্বর ১৩ সদস্যের প্রাথমিক কমিটি ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার নির্দেশনা থাকলেও ছয় মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হলো।