[english_date], [bangla_date]

রামপালে আপত্তি তুলে নিয়েছে ইউনেস্কো : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

Friday, 07/07/2017 @ 3:44 am

unescoনিউজ ডেস্ক : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি বাংলাদেশের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিষয়ে তাদের আপত্তি প্রত্যাহার করেছে। এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে ‘সুন্দরবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে’ বলে যে অবস্থান সংস্থাটির ছিল তাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।  বিবৃতিতে বলা হয়, পোল্যান্ডের ক্রাকোতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির ৪১তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড: তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রতিনিধিদল ওই বৈঠকে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।
ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ-এর ২১ সদস্যের ওই কমিটি বিশ্বের সংস্কৃতি কিংবা প্রাকৃতিক অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে তালিকা প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। ওই কমিটি উত্তীর্ণ ঐতিহ্যের স্থানগুলির সংরক্ষণের অবস্থাও নিরীক্ষণ করে। কোনো স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হলে সেই অঞ্চলের রাষ্ট্রপ্রধানকেও তারা বিষয়টি অবহিত করে।
সুন্দরবনকে ১৯৯৭ সালে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ-এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর অনন্য বাস্তুতন্ত্র এবং অসামান্য সার্বজনীন মান বিবেচনা করেই সুন্দরবনকে তালিকাভুক্ত করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্য সম্পত্তি সংরক্ষণের বিষয়ে তার উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং বাংলাদেশের সরকারকে সুন্দরবনের সংরক্ষণে উন্নতির জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায়।
সুন্দরবনে পর্যাপ্ত জলপ্রবাহ নিশ্চিত করা, পশুপাখিকে অবৈধ শিকারিদের কাছ থেকে রক্ষা, বনের সম্পদের উৎকর্ষের বিষয়টি নিশ্চিতের পাশাপাশি রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বিশ্ব ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা এই কমিটির বিবেচনার আওতায় আসে।
এর আগে ২০১৬ সালে, ইউনেস্কোর একটি প্রতিনিধিদল সুন্দরবনের উপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থানান্তরের সুপারিশ করে।
দীর্ঘ আলোচনার পর কমিটি বাংলাদেশকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সাথে বর্তমান অবস্থানে উন্নয়নের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। এমনকি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবনের সংরক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপকেও স্বাগত জানিয়েছে কমিটি।
কমিটির অনুরোধে, সুন্দরবনসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের একটি কৌশলগত পরিবেশগত মূল্যায়ন (এসইএ) গ্রহণ করতে সম্মত হয় বাংলাদেশ।
ড: তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের কমিটির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তিনি সুন্দরবনের অসামান্য সার্বজনীন মূল্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে বলে কমিটিকে আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধি দলে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ কৈকাস,  ফ্রান্সে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এবং ইউনেস্কোর স্থায়ী প্রতিনিধি মো: শিহাবুল ইসলাম, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউর রহমান, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ডিজি রাইসুল আলম মণ্ডল, পিডিবির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার খালিদ মাহমুদ, পাওয়ার সেল’র ডিজি মোহাম্মদ হোসেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পরিচালক ড. সুলতান আহমেদ, বন সংরক্ষণ বিভাগের জহিরুদ্দিন আহমেদ।