[english_date], [bangla_date]

রাজস্ব ঘাটতি ৪৩ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়াবে

Monday, 10/07/2017 @ 12:05 pm

নিউজ ডেস্ক : চলতি ২০১৭- ১৮ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি ৫৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। একই সঙ্গে বাজেট প্রণোদনা বাবদ রাখা ১০ হাজার ১৪৫ কোটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। সোমবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সেন্টার ফর সিপিডি ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
দেবপ্রিয় বলেন, ‘ভ্যাট আইন কার্যকর না হওয়ায় রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হবে। এ ঘাটতি সর্বনিম্ন ৪৩ হাজার কোটি টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। সরকারকে বলব আসছে নির্বাচনী ডামাডোলে যেন ভ্যাট আইনের প্রস্তুতি হারিয়ে না যায়।
তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে বাজেটের পুঁজিবাজার, ব্যাংকসহ বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা দিতে ১০ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ ব্যবহারে সরকারকে সর্বোচ্চ সতর্ক উচিৎ।
সিপিডি ফেলো বলেন, অনেক সময় দেখা যায় সরকারি ব্যয় দিয়ে ব্যক্তি পুঁজিতে লাভ দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতি এড়াতে বিভিন্ন খাতে প্রণোদনার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারে সরকারকে সর্বোচ্চ সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে ব্যাংকের জন্য রাখা ২ হাজার কোটি টাকা কোনো কাজে আসবে না। এই অর্থ সিন্ধুর মধ্যে বিন্দুর মতো তলিয়ে যাবে। ব্যাংকে যে পরিমাণ ঘাটতি আছে-সেখানে এই ২ হাজার কোটি টাকা কোনো অবদানই রাখবে না। এর জন্য প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার।
দেবপ্রিয় বলেন, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ পরিচালনায় সুশাসন, বাংলাদেশ ব্যাংক সঠিকভাবে দেখভাল করা, ব্যাংকিং বিভাগ কী করছে- এসব বিষয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি রয়ে গেছে। এ জন্য ব্যাংকিং খাতের সংস্কার যে হচ্ছে না। এর মূল কারণ প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতা নাকি রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এটা খতিয়ে দেখতে হবে।
সরকারকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বাজেটে অনুন্নয়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনেক কিছু সংযত করার সুযোগ আছে। এর মধ্যে ব্লক বরাদ্দ ৩ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা রয়েছে। এই টাকা পরিহার করার সুযোগ আছে কি না- সরকার বিবেচনা করতে পারে। এছাড়া পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে দেওয়া ১ হাজার ৬৬ কোটি টাকাও সর্তকতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। একইসঙ্গে চালের ওপর আমদামি শুল্ক পুরোপুরি তুলে দেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিপিডির ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।