[english_date], [bangla_date]

নারী নেত্রীদের সঙ্গে সংলাপ করবে ইসি

Saturday, 15/07/2017 @ 1:09 pm

 নিউজ ডেস্ক : আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সবার অংশগ্রহণমূলক করার জন্য দেড় বছরের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে সবার সামনে এই রোডম্যাপ তুলে ধরবেন কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন কমিশন। রোডম্যাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশের সময়, রাজধানীর আসন নির্দিষ্ট করা, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও সীমানা পুননির্ধারণ আদেশ বাংলায় রূপান্তরের প্রস্তাব, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ, পর্যবেক্ষক, নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি এবার নারী নেত্রীদের সঙ্গেও সংলাপ করার পরিকল্পনা থাকছে।
ইসি সূত্র জানায়, সংলাপে প্রথম দিক দেখে নারী নেত্রীদের সঙ্গে বসার কোনো পরিকল্পনা না থাকলেও যেহেতু সব জায়গায় নারী নেতৃত্ব বিকাশের কথা বলা হচ্ছে, তাই শেষ বেলায় রোডম্যাপে অন্যান্যদের মতো নারী নেত্রীদের সঙ্গেও সংলাপ করার বিষয়টি যোগ করেছে। এটিই হবে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনের নারী নেত্রীদের সঙ্গে প্রথম কোনো সংলাপ। এর আগে এই ধরণের কোনো উদ্যোগ কমিশনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি।
সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্যই এ কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান ইসি কর্মকর্তারা।
ইসি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। নতুন কমিশন গঠনের পাঁচ মাসের মাথায় ‘কর্মপরিকল্পনা-রোডম্যাপ’প্রকাশ আগামী সংসদ নির্বাচনকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলারই অংশ।
নারী নেত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে কারা হবেন এই সংলাপের সদস্য এই বিষয়ে ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, নারীদের বিভিন্ন সংগঠন আছে, সোস্যাল ওয়ার্কার আছে, হিউম্যান রাইটস আছে বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মকর্তা যারা আছেন এদেরকে নিয়ে বসবে কমিশন।
নারী নেত্রীদের সঙ্গে আলাদাভাবে বসার কারণ হিসেবে ইসি সচিব বলেন, সবাই যেহেতু নারী নেতৃত্ব চাচ্ছে সে জন্য এই বিষয়টি নেওয়া হয়েছে। রোববার ইসির এই কর্মপরিকল্পনা সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। সিইসি তা উন্মোচন করবেন বলেও জানান ইসি সচিব।
সচিব আরো জানান, আইনী সংস্কার, নির্বাচন প্রক্রিয়া যুগোপযোগী, সংসদীয় আসনের পুনর্বিন্যাস, ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র, দলের নিবন্ধন ও সুষ্ঠু নির্বাচনে সক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত কর্মপরিকল্পনা ইসি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে তা বই আকাশে প্রকাশ শেষ হয়েছে।
সুশীল সমাজের মাধ্যমে ৩১ জুলাই থেকে অক্টোবর নাগাদ এ সংলাপে পর্যায়ক্রমে গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, নারী সংগঠনের নেত্রী ও নির্বাচন পরিচালনা বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। সেক্ষেত্রে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনের অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধতা রয়েছে।
কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনায় বিদ্যমান আইন-বিধি প্রয়োগ করে অতীতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব হয়েছে। এখন আইনী কাঠামোর আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে ইসি বিবেচনা করে না। তবে পরিবেশ-পরিস্থিতির পরিবর্তনের মুখে এগুলো আরও যুগোপযোগী করার সুযোগ রয়েছে। যাতে ভোট প্রক্রিয়া আরও সহজতর ও অর্থবহ হয়।
ইসির রোডম্যাপে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ও নির্বাচন পরিচালনা বিধি অনুযায়ী ‘পোস্টাল ব্যালটে’ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়াটি জটিল। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানরতদের সহজ পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার কাঠামো বের করা প্রয়োজন। এছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীর গেজেট প্রকাশ নিয়ে বিধিতে অস্পষ্টতা দূর করা, সেই সঙ্গে আইনী কাঠামো পর্যালোচনা করে আরো কোনো অসঙ্গতি পেলে তা দূর করার কথাও বলা হয়েছে।
রোডম্যাপে আরো বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-এর এ পর্যন্ত দু’শতাধিক সংশোধনী আনা হয়েছে। এ আইনটিও যুগোপযোগী করতে আরও সংস্কারের প্রয়োজন হবে। এছাড়া প্রস্তাব করা হয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও সীমানা পুননির্ধারণ অধ্যাদেশ বাংলা ভাষায় রূপান্তর করা গেলে ভোটার, প্রার্থী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার কাছে সহজবোধ্য হবে।
৭টি করণীয় বিষয়ে কর্ম-পরিকল্পনা :
আইনি কাঠামোসমূহ পর্যালোচনা ও সংস্কার; নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও যুগোপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ গ্রহণ; সংসদীয় এলাকার নির্বাচনী সীমানা পুনঃনির্ধারণ; নির্ভূল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সরবরাহ; বিধি অনুসারে ভোটকেন্দ্র স্থাপন; নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নীরিক্ষা; এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট সবার সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ।