[english_date], [bangla_date]

নতুন ইতিহাস গড়লেন ফেদেরা

Monday, 17/07/2017 @ 7:52 am

নিউজ ডেস্ক : একতরফা ফাইনাল জিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন রজার ফেদেরার। রোববার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার মারিন চিলিচকে ৬-৩, ৬-১, ৬-৪ গেমে হারান এই সুইস কিংবদন্তি। এই জয়ে উন্মুক্ত যুগে তার চেয়ে বেশি বয়সে উইম্বলডন জেতেননি আর কোনো পুরুষ খেলোয়াড়। অষ্টম উইম্বলডন জিতে উইলিয়াম রেনশ ও পিট সাম্প্রাসকে ছাড়িয়ে অল ইংল্যান্ড ক্লাবে সবচেয়ে সফল পুরুষ খেলোয়াড়ও এখন ফেদেরার।
এর আগে উইম্বলডনে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে শিরোপা জিতেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থর অ্যাশ। এবার তাকে ছাড়িয়ে ৩৫ বছর ১১ মাস বয়সে উইম্বলডন জিতলেন ফেদেরার।
প্রথম সেট ৬-৩ এ শেষ হওয়ার পর চেয়ারে বসে মারিন চিলিচ কাঁদছেন, পাশে দাঁড়িয়ে কেউ একজন সান্ত্বনা দিচ্ছেন। তখনই কিছু একটা আঁচ করা গিয়েছিল।
এরপর জানা গেল বাঁ পায়ে মারাত্মক চোট পেয়েছেন চিলিচ। এমন চোট নিয়ে হয়তো কোনোরকমে খেলা চালিয়ে যাওয়া যায়, উইম্বলডনের ফাইনাল জেতা যায় না। তাও প্রতিপক্ষ যদি হন রজার ফেদেরার- এটা আর কেউ না বুঝুক চিলিস ঠিকই বুঝেছিলেন। এজন্যই তার চোখ গড়ে ঝরছিল অশ্রু।
পায়ে ব্যান্ডেজ নিয়ে ঠিকই খেললেন চিলিস। কিন্তু ফল যেন নির্ধারিতই ছিল। পরের দুটি সেটও ফেদেরার জিতলেন ৬-১, ৬-৪ গেমে। আর তাতেই লেখা হয়ে গেল নতুন ইতিহাস।
চার বছর পর এই আসরে শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পেলেন রজার ফেদেরার। পিট সাম্প্রাসকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে বেশি আটবার উইম্বলডনে চ্যাম্পিয়ন হলেন তিনি।
চলতি বছরই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে রাফায়েল নাদালকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের ১৮তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতেন ফেদেরার। সে ধারাবাহিকতায় এবার আরেকটি শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়েন তিনি।
২০০৩ সালে এখানেই ক্যারিয়ারে প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছিলেন ফেদেরার। এবার সেখানেই জিতে নিলেন আরেকটি শিরোপা। এখন গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ে তার পেছনে রয়েছেন শুধু রাফায়েল নাদাল, ১৫টি।
জেতার পর কোর্টের ধারে বসে তোয়ালেতে মুখ ঢেকে ফেদেরার। ক্যামেরা ক্লোজ আপে ধরলে দেখা গেল, টেনিস সম্রাটের চোখে পানি। উইম্বলডনে তার পাখির চোখ ছিল বলেই ক্লে কোর্ট মৌসুমে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। চেয়েছিলেন এই ট্রফিটা ঘরে তুলতে। সেই স্বপ্ন পূরণ হতেই আবেগের বাঁধ ভাঙল টেনিস কিংবদন্তির।
কেন এই বাঁধভাঙা আবেগ, তা ফেদেরারের মন্তব্যেই আন্দাজ করা গেল। যখন বললেন, ‘আমার নায়কেরা এই উইম্বলডনের কোর্টে খেলেছেন। সেজন্যই এ রকম এক ঐতিহাসিক টুর্নামেন্টকে মর্যাদা দিতে পারাটা আমার কাছে বিশাল ব্যাপার। নিজেকে সব সময় বলে এসেছি, তুমি ঠিক পারবে। আজ সত্যিই পারলাম। আট নম্বর উইম্বলডন খেতাব জয় আমার কাছে অসাধারণ এক অনুভূতি।’
তিনি বলেন, ‘আশা করি এটাই আমার শেষ উইম্বলডন নয়। আবার এখানে ফিরে আসতে চাই। আরো একবার সেন্টার কোর্টে নেমে নবম খেতাবটা জিততে চাই।’
আহত চিলিচের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল রজার ফেদেরার, ‘ছেলেটার দুর্ভাগ্য। ও রকম একটা চোট যে হয়ে যাবে, তা ভাবতেই পারেনি ও। তবে তাও যথাসম্ভব ভাল খেলার চেষ্টা করেছে ও।’
গতবারের উইম্বলডনের পর ছয় মাস বিশ্রাম থেকে ফিরে এ বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন আর উইম্বলডন খেতাব জিতলেন ফেদেরার। গত বছর একটাও খেতাব না পাওয়া ফেদেরার এ বছর মাত্র দুটি ম্যাচ হেরেছেন। তার কাছে এটা বড় প্রাপ্তি।
ম্যাচের পর সাংবাদিকদের ফেদেরার বলেন, ‘আমি খুবই অবাক, বছরটা এত ভাল যাওয়ায়। দুটো গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতব ভাবিইনি।’
আর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে হাসতে হাসতেই তিনি বললেন, ‘আগে বুঝতে পারলে ওই বিশ্রামটা অনেক আগেই নিতাম। দেখি, এখন আবার কয়েক মাসের বিশ্রামে যাওয়া যায় কি না!’
এ জয়ের পর বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের তিন নম্বরে উঠে আসবেন ফেদেরার। তারপরে আরো উপরে ওঠার দৌড় শুরু হয়ে যাবে তার।