সন্তানের প্রেমের বলি অসহায় মা-বাবা!

0
36
Helpless parents sacrifice child love
Helpless parents sacrifice child love

প্রেমকে সংসারে রূপ দিতে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছে হিন্দু মুসলিম ধর্মের  এক প্রেমিক যুগল।

বাবা-মায়ের এক মাত্র সন্তান শ্রীমতি উর্মিলা রাণী সরকার।নম্র, ভদ্র, উর্মিলা দেখতেও যেমন সুন্দর সুঠাম দেহের অধিকারী কাজে কর্মে ও ব্যবহারের নানা গুণে গুণান্নিত সে। এ বছর ভাল রেজাল্ট নিয়ে এইচ.এস.সি পাশ করে।

বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান হওয়ার সুবাদে শত- দুঃখ কষ্টের মধ্যেও অভাব-অনটন তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। যখন যা কিছু প্রয়োজন বলা মাত্র হাজির হয়ে যেত তার সামনে। প্রিয় এই সন্তানকে নিয়ে দুনিয়া জোড়া আশা ছিল অসহায় পিতা-মাতার।

কিন্তু সেই আশায় গুড়ে বালি দিয়ে নিজ ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান ছেলের হাত ধরে অজানা পথে পা বাড়িয়ে ১২ (বার) দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। উর্মিলার পরিবারে দাবি পাশের গ্রামের আশকর আলীর ছেলে মোঃ ছামাদ আলী তার মেয়েকে অপহরণ করে গুম করে রেখেছেন।

টাংগাইলের ঘাটাইল উপজেলার বৃহত্তম রসুলপুর ইউনিয়নের দিলদারপুর গ্রামের অমল চন্দ্র সরকারের একমাত্র মেয়ে শ্রীমতি উর্মিলা রাণী সরকার পাশের গ্রামের আশকর আলীর পুত্র মোঃ ছামাদ আলীর সাথে পালিয়ে গিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

সরজমিনে গিয়ে উর্মিলার ও ছামাদ আলীর বাবা-মা এলাকাবাসী ও আত্মীয় স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায় আজ থেকে ১২ (বার) দিন পূর্বে উর্মিলা অর্নাসে ভর্তি হওয়া জন্য ফর্ম উঠাতে ধনবাড়ি কলেজের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।

মেয়ে বাড়িতে ফিরে না আশায় উর্মিলার মা- অঞ্জলী রাণী চিন্তায় এদিক ও দিক ছুটাছুটি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে রাত্রি হয়ে গেলে বাড়ির লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে জানতে পারেন উর্মিলা এখনো বাড়ি ফিরে আসেনি।

নিকট আত্মীয়সহ উর্মিলার বন্ধু-বান্ধবদের কাছে ফোন করে খুঁজ খবর নিয়ে কোথাও সন্ধান না পেয়ে চরম দুঃচিন্তায় পড়ে যান অসহায় বাবা-মা। ভোর হতে না হতেই কু-কথা বাতাসে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ প্রেমিকের সাথে ঝগড়া করে মাকে কুপিয়ে হত্যা করল মেয়ে

দুপুর গড়িয়ে বিকাল হলে এম.ডি. সামাদ মিয়া সাগর নামে ফেসবুক আইডি থেকে ধর্মান্তরিত হবার হলফ নামাসহ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার প্রমাণ পত্র পোষ্ট করেন।

তাতে দেখা যায়- টাঙ্গাইল বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক নোটারী পাবলিক; টাঙ্গাইল ধর্মান্তরিত হইবার হলফ নামা ও বিবাহ বন্ধনের আবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।

ধর্মান্তরিত ও বিবাহ বন্ধনের বিষয়টি এক সপ্তাহের অধিক সময় গোপন থাকলেও গত শুক্রবার (৪ই অক্টোবর) বিষয়টি প্রকাশ পেলে সনাতন ধর্মাবলম্বি সম্প্রদায় থেকে শুরু করে প্রথমে নীজ ইউনিয়ন রসুলপুর ও পরে পুরো উপজেলা জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ও হৈ-চৈ শুরু হয়ে যায়।

এ বিষয়ে উর্মিলার মা-বাবার সাথে কথা বলে জানা যায় আমার একমাত্র বুকের ধন উর্মিলাকে নিয়ে দুঃচিন্তায় আছি। ওরা আমার মেয়েকে গুম করে রেখেছে নাকি মেরে ফেলেছে কিছুই জানিনা। আজ ১০/১২ দিন ধরে বাড়িতে চুলা জ্বলে না।

অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছি। সামাজিক ভাবেও ব্যাপক চাপের মধ্যে আছি। নিজ সম্প্রদায়ের লোকেরা বিভিন্ন অপবাদ ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। কি অবস্থায় আছি ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়।

কথা গুলো বলার সময় টপ-টপ করে অশ্রু ঝড়ছিল উর্মিলার অসহায় বাবা-মায়ের চোখ দিয়ে একমাত্র মেয়ে মুসলমান ছেলের সাথে পালিয়ে যাওয়ায় বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন তারা।

অপর দিকে ঘটনার মুলহোতা প্রেমিক ছামাদ আলীর মা-বাবার সাথে কথা বলে জানা যায় অভাবের সংসারে অনেক দুঃখ কষ্ট করে সন্তানকে বড় করেছি।

লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হয়ে সংসারের হাল- ধরবে আমাদের মুখে হাঁসি ফুটাবে এমনটাই চাওয়া ছিল সন্তানের প্রতি কিন্তু এ বয়সে এসে এমন বদনাম অপবাধ সইতে হবে চিন্তাও করিনি। আমরা গরীব মানুষ। দু-বেলা দু-মুঠো ভাত ছাড়া অন্য কোন চাহিদা নেই আমাদের।

আমরা শান্তিতে থাকতে পছন্দ করি। দেশের এতো মুসলমান মেয়ে থাকতে একটি হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে আমাদের নাক-কান কেটে দিয়েছে এই সন্তান। এটা মেনে নিতে পারছিনা।

বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিঃষ্টান ঐক্য পরিষদ বৃহত্তম রসুলপুর ইউনিয়নের সভাপতি রনজিত চন্দ্র দাস বলেন- বিষয়টি এমন হয়েছে যে, আমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বলে চরমভয় ও আতংকের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছি। বিয়ষটি নিয়ে এক শ্রেণীর মানুষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য যে, এই প্রেমিক যুগল একই ক্লাসে লেখাপড়া করত। গত বছর দুইজনেই এইচ.এস.সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। ছোট বেলা থেকেই তারা দুইজনে একই প্রাইমারী স্কুল ও হাই স্কুলে পড়ালেখা করত। একই স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ত ও কোচিং করত। উর্মিলা প্রাইমারীতে পড়ার সময় থেকেই ছামাদ আলীর সাথে প্রেম ভালোবাসায় লিপ্ত ছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here