শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২০

উত্তরায় হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা সেবা! প্রতিবাদে বিক্ষোভ

Corona patient admission and medical care at Uttara Hospital

রাজধানী উত্তরায় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে করানো রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে জানতে পেয়ে  স্থানীয় এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

এতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের বাধার মুখে পড়ে তারা। এসময় ভাংচুর, হাতাহাতি ও হট্রোগোলের সৃষ্টি হয়।

রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর ১৭ নম্বর রোড ৩৮ নম্বর বাড়ি রিজেন্ট হাসপাতালের এ ঘটনা ঘটে।

আতঙ্কিত এলাকাবাসী মনে করছে, আবাসিক এলাকায় রিজেন্ট হাসপাতালে করোনা ভাইরাসের রোগীর চিকিৎসা করা হলে স্থানীয় বাসিন্দাররা অধিক ঝুঁকিতে পড়বেন।

জানা গেছে, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ও ডিএনসিসির ৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এর নেতৃত্বে কয়েকশত মানুষ রাস্তায় অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল বের করে।

পরে বিশাল মিছিলটি উত্তরা পশ্চিম থানা ১৭ নম্বর রোডের ৩৮ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত রিজেন্ট হাসপাতালে সামনে যায়।

এসময় মিছিলকারী জনতা হাসপাতালের মূল গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালালে হাসপাতালের লোকজন তাদেরকে বাধা প্রদান করে।

এক পর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে স্থানীয় বাসিনা,কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বাধা দিলে মিছিলকারী জনতার সাথে তাদের বাকবিতন্ড হয়।

এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও হট্রোগোল বাধে। এসময় মিছিলকারী স্থানীয় জনতা হাসপাতাল ভাংচুরের চেষ্টা চালায় এবং হাসপাতালে ইঁটপাট নিক্ষেপ করে।

আরও পড়ুনঃ ময়মনসিংহে করোনা মোকাবেলায় ব‍্যাবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভা

খবর পেয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তপনচন্দ্র সাহা,ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ সহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে পুলিশের হাতে মিছিলকারী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং কল্যাণ সমিতির নেতাদের সাথে বাকবিতন্ড হয়।

একপর্যায়ে পুলিশের সাথে কয়েক দফা মৃদু সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় খবর পেয়ে স্থানীয় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে পৌছে ছবি ও তথ্য সংগ্রহকালে স্থানীয় জনতা ও পুলিশের বাধার সম্মুখিন হন।

পেশাগত দায়িত্ব পালন কালে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সাংবাদিক মনির হোসেন জীবন লাঞ্জিত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এঘটনার পর রোববার রাত সোয়া ৯টার দিকে ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা,ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ সহ স্থানীয় প্রশাসনের সাথে ডিএনসিসি ৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ১১ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দর সাথে রিজেন্ট হাসপাতালের ভেতরে ২০ থেকে ৩০জনকে সাথে নিয়ে এক জরুরী বৈঠক করেন। এবিষয়ে প্রায় আধাঘন্টা ব্যাপী বৈঠক করা হয়।

বৈঠক শেষে বের হয়ে স্থানীয় জনতার সম্মুখে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: শরীফুর রহমান সাংবাদিকদেরকে বলেন, আমরা এখানে সেক্টর বাসিরা করোনা ভাইরাসের রোগীর ভর্তি কিংবা চিকিৎসা সেবা নিতে দিবো না।

আমরা উত্তরা বাসিরা খুব আতংকের মধ্যে আছি। এবিষয়ে নিয়ে আমরা স্থানীয় প্রশাসন বৈঠক করেছি। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট সাহারা খাতুন (এমপি)কে অববিহত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা জানান,  উত্তরা রিজেন্ট হাসপাতাল মালিক ও কর্তৃপক্ষ করোনা ভাইরাসের রোগী চিকিৎসা করার জন্য সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ৫টি হাসপাতাল অনুমতি নিয়েছিল।

তার মধ্যে রিজেন্ট হাসপাতাল রয়েছে। আমরা তাদের কাগজপত্র দেখেছি। আমরা হাসপাতাল বন্ধ করতে পারিনা। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যাপার। তারা এবিষয়ে সিদ্বান্ত নিবেন।

এবিষয়ে জানতে রোববার রাত সাড়ে ৯টায় ডিএনসিসি ৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ১১ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদকের ভাই মো: সোহেল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এঘটনার পর আমার মামাতো ভাই কাউন্সিলর মো: শরীফ রহমানকে র‌্যাব সদস্যরা ১১ নম্বর সেক্টর থেকে ধরে র‌্যাব-১ উত্তরা কার্যালয়ে নিয়ে গেছে। রাত পৌনে ১১টায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি  র‌্যাবের হেফাজতে আছেন বলে জানিয়েছেন।

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান রুমন

0Shares