জাতীয়

এখন দেখি সবাই নেতা! তাহলে কর্মী কে?- যুবলীগের হারুন অর রশিদ

মোল্লা তানিয়া ইসলাম তমাঃ নেতা আসছেন । নেতার আগমনে মাঠে-গঞ্জে প্রচার চলছে । সভাস্থল
লোকে লোকারণ্য । উপচে পড়া জনতার ভিড় । শেষ মুহূর্তে নেতা আসলেন । বক্তৃতা দিলেন । সু-ললিত কণ্ঠে
বক্তৃতা তুলে ধরলেন । দেশ-জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক কথা বললেন । শ্রোতাকুল মুগ্ধ হলেন । নেতা
স্টেটসম্যানের ভূমিকা পালন করলেন । নেতা একজনই হন । তিনিই নেতা যার মধ্যে থাকে অপূর্ব
নেতৃত্বের গুণাবলী । তিনিই প্রকৃত নেতা যার মধ্যে থাকে সাংগঠনিক ক্ষমতা । তিনিই নেতা যিনি
দেশ-জাতিকে ভালোবাসেন । তিনিই নেতা জনগণ যার কথায় হাসে, আবার তার কথায় অশ্ধসঢ়;রু বর্ষণ করে ।
তিনি হয়ে উঠেন একজন সম্মোহনী শক্তির মানুষ । তিনি দেশকে নিয়ে মনেপ্রাণে ভাবেন । জাতিকে
নিয়ে গভীরে চিন্তা করেন । এক কথায় তিনি সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে ব্যতিক্রমধর্মী একজন অসাধারণ
মানুষ। আর এখন! এবার এক নজরে তাকিয়ে দেখুন ঘাটে-মাঠে-শহর-বন্দরে বিলবোর্ডের দিকে। নেতার
ছড়াছড়ি। বিলবোর্ডের যেমন শেষ নেই। নেতারও কোনো কমতি নেই। হালে নেতার অনেক বিশেষণ। কেউ
আতি নেতা, কেউ পাতি নেতা, কেউ বড় নেতা, ছোট নেতা, সিকি নেতা, হাইব্রিড নেতা, কালো
টাকার নেতা, মোসাহেবি নেতা, আত্মীয়ের নেতা। এ রকম অসংখ্য নেতা। এক কথায় নেতায় নেতায় দেশ
ফাউল। কথা গুলো বলছিলেন ঢাকা উত্তর সিটির ৫৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী- যুবলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী,
কর্মী বান্ধব ক্লিন ইমেজের যুবলীগ নেতা- মোঃ হারুন অর রশিদ । তিনি আরও বলেন, হালে নেতার ভিড়ে
পোস্টার লাগাতে কর্মী খুঁজে পাওয়া যায় না । যদিও এককালের প্রখ্যাত ছাত্রনেতা ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের
এক সভায় ভিন্ন কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন ্#৩৯;বাংলাদেশ নেতা উৎপাদনের বিরাট কারখানা । কথাটি
শতভাগ সত্য। আসল নেতা হালে আকাল । কারণ রাজনীতির রঙ্গালয়ে বিষময় পরিস্থিতি দেখে আসল নেতারা
হারিয়ে গেছেন। স্বেচ্ছায় অবসরে চলে গেছেন। অনেকে যাচ্ছেন। তাই অন্তঃসার শূন্য মেধাহীন নকল
নেতা নিয়ে এতো টানাটানি। এতো মোসাহেবি। এতো আনন্দ, এতো উল্লাস। কিন্তু কেন, আমাদের
মধ্যে এই পরিবর্তন? কেন মানসিকতার বৈকল্য। কেন আদর্শিক চেতনার অভাব? জাতির ললাটে এসব
বিশেষণে ভূষিত হবার কথা নয়। কারণ ইতিহাস-ঐতিহ্যের দেশ বাংলাদেশ। প্রতিবাদের দেশ বাংলাদেশ। অনুপম
সম্প্রদায়-সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার ছোট একটি দেশ প্রিয় বাংলাদেশ। ১৬ কোটি
জনগণের দেশ বাংলাদেশ। মিছিলের দেশ বাংলাদেশ। আন্দোলনের দেশ বাংলাদেশ। সংগ্রামের দেশ বাংলাদেশ।
গাজী-শহীদের রক্তেভেজা বাংলাদেশ। যুগ শ্রেষ্ঠ মহান পথিকৃতদের দেশ বাংলাদেশ। এখানকার মানুষ
রাজনৈতিকভাবে সচেতন বহু পূর্বে থেকে। তবে দুর্ভাগ্য! দাঙ্গা-হাঙ্গামা কলহ-বিবাদ মানুষের
নিত্যদিনের এক সঙ্গী । এ যেন তাদের ভাগ্যের নির্মম এক লিখন। যুবলীগ নেতা জনাব মোঃ হারুন অর রশিদ
ইতিহাসের কথা শরণ করে বলেন, মোগল সম্রাট আকবরের উপদেষ্টা, ইতিহাসবিদ কবি আবুল ফজল তাই
বাংলাকে দেখেছেন এক ্#৩৯;অশান্ত গৃহ হিসেব্#ে৩৯;। তিনি বাঙালি জাতি সম্পর্কে তার রচিত
্#৩৯;আকবরনাম্#া৩৯;য় নাতিদীর্ঘ এক চিত্র এঁকেছেন। যুগ থেকে যুগান্তরে প্রকৃতিগত এবং বৈরী
আবহাওয়াজনিত কারণে বাংলার মানুষের মনে বিদ্রোহের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। স্বাভাবিক
কারণে তাই তারা বিদ্রোহী। প্রতিবাদী। অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে মূর্ত প্রতীক। এই বাঙালিরা মোগলদের
বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। ঢাল-তলোয়ার হাতে নিয়ে এদেশের মানুষ ইংরেজদের রুখে দিয়েছে। পাকিস্তানি
শাসক চক্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য জীবন বাজি রেখে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। তাদের কাছে জীবন মানেই
সংগ্রাম। এই জীবন-সংগ্রামের ভেতর তারা আজও ডুবে আছে।
এ কথা সত্য যে, প্রথার ওপর ভিত্তি করে তাদের জীবন ব্যবস্থা কখনও গড়ে উঠেনি। তাই দেখা গেছে নানা
বৈরিতার কারণে বাঙালিরা কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খল হয়ে উঠেছে। উগ্র মূর্তি ধারণ করেছে।
আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে কোমল হৃদয়ের প্রকাশ পেয়েছে। তাই তারা হয়ে উঠেছে
অসহিষ্ণু। এতোসব উগ্রতা এবং অসহিষ্ণুতার কারণে দ্#ু৩৯;জন জনপ্রিয় রাষ্ট্র প্রধানকে আমরা
হারিয়েছি। মদ্দা কথা আদর্শকে আমরা লালন করি না। নেতার নির্দেশ পালন করি না। যার ফলে সবাই নেতা।
কেউ তান্ত্রিক নেতা সাজতে যান । আবার অনেকে লাগামহীন বড় বড় কথা বলেন। বাহবা নিতে যান।
কর্মীরা থাকেন স্টেজে । নেতা চলে যান বনে। একজন কর্মীকে স্টেজের সামনে পাওয়া যায় না। মাঠে
খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে মাইকে বক্তৃতা দিতে তথাকথিত এসব নেতারা বড়ই পটু। নেই কোনো
শ্রদ্ধাবোধ এদেশের মানুষ সব সময় অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে । তাদের কণ্ঠে একদিন বিপ্লবের
দানা ধূমায়িত হয়েছিল। তখন তারা ছিল পরাধীন। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে অন্যায়, অপশাসনের বিরুদ্ধে রুখে
দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারা মাঠে-প্রান্তে একদিন বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। গেয়েছেন স্বাধীনতার
জয়গান। বীরদর্পে উচ্চারণ করেছেন ্#৩৯;লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই্#৩৯;। প্রশ্ন এসে যায়,
এখন কার বিরুদ্ধে, কার লড়াই। স্বাধীন দেশ। স্বাধীনতার বয়স গড়াতে গড়াতে পঞ্চাশ বছর হতে গেল। তবুও
ভাগ্যের চাকা ঘুরেও ঘুরছে না। এ সবের মূলে কারণ কী? একমাত্র কারণ পরস্পরের মধ্যে বিদ্বেষ, হানাহানি,
রক্তারক্তি। তাদের কাছে দেশ বড় কথা নয়। আদর্শ বড় কথা নয়। ক্ষমতাই বড় কথা। চেয়ার দখলই বড় কথা। তাই
ক্ষমতার লড়াইয়ে তারা পরস্পর অসম প্রতিযোগিতায় মাঠে নেমেছে। আমজনতাকে এড়িয়ে চলে। স্বার্থের
মোহে চোরাগলিতে পা বাড়াতে থাকে। এক নেতা আর এক নেতাকে শ্রদ্ধা করে না। জুনিয়র-সিনিয়রকে
মানে না। একে অপরকে সহ্য করতে পারে না। মুখ দেখাদেখি করে না। ফলে সর্বত্রই স্থবিরতা। চরম এক
বিশৃঙ্খলা। এক কথায় সর্বত্রই হ-য-ব-র-ল। গণতন্ত্রের কোনো প্র্যাকটিস নেই। পরস্পর ভিন্ন মতকে সহ্য
করতে পারে না। ফলে প্রকৃত নেতা তৈরি হচ্ছে না। এক সময় স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেতা তৈরি
হতো। তারাই হতো ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের কর্ণধার। এখন এ সবের কোনো বালাই নেই। নেতা তৈরির
কোনো ধারাবাহিকতা নেই। তবে কালো টাকার জোরে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতা তৈরির
চেষ্টা চলছে। এরা মেধাবান কিনা, নেতৃত্ব দেবার যোগ্যতা রাখেন কিনা এ সবের কোনো বিচার নেই।
নেতাদের পকেটে টাকা গেলে সব খেল খতম। ফলে মেধাহীন-অযোগ্যদের চলছে সর্বত্র মহড়া। নেতৃত্ব নিয়ে
চলছে লংকা-ডংকা। এক রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা। যার ফলে রাজনীতির এই রঙ্গালয়ে চলছে এখন হ-য-ব-র-ল। বাঁকা পথে সব
নেতা হচ্ছেন। তাই এদের বলা হচ্ছে অতি নেতা, পাতি নেতা, বড় নেতা, নেতা, সিকি নেতা, হাইব্রিড
নেতা, কালো টাকার নেতা। এসব নেতারা প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করছেন। মাঝে মধ্যে যতেচ্ছাচার
নতুনভাবে ইতিহাসের সজ্ঞা দিচ্ছেন। আদর্শিক চেতনার অভাব ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসন আমলে
সমাজের একজন নিকৃষ্ট ব্যক্তিরও আদর্শ ছিল। দেশাত্ববোধ ছিল। সুন্দর চিন্তা-চেতনা ছিল। তারা দেশ-
জাতিকে নিয়ে চিন্তা করতেন। সর্বসাধারণের মঙ্গল কামনায় দিনরাত গুজরান করতেন। নিজের অর্জিত
ধন-সম্পদ জনগণের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন। ১৭৯২ সালের শেষ দিকের কথা। খুলনা-বাখরগঞ্জ এলাকায় একবার
প্রজা বিদ্রোহ হয়েছিল। সে যুগের রবীণহুড আবদু ডাকাতের কাহিনী ইতিহাসবেত্তাদের কাছে আজও
শোনা যায়। ইতিহাসের পাতায় পাওয়া যায়। এই আবদু ডাকাত অত্যাচারী সরকার ও জমিদারদের বিরুদ্ধে
লড়াই করেছেন। ডাকাতি করে টাকা পয়সা করেছেন। তবে এসব টাকা পয়সা তিনি ভোগ করেননি। সব
অর্থ-সম্পদ গরিব-দুঃখীদের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছেন।
বিখ্যাত রাজনীতিক অশ্বিনী কুমার দত্ত তাই লিখেছেন,-্#৩৯;আমি যেন পর জন্মে আবদু ডাকাতের ছেলে হয়ে
জন্ম লাভ করতে পার্#ি৩৯;। কী ছিল তাদের অনুপম আদর্শ। কী ছিল তাদের দেশাত্ববোধ? আর আমি, আপনি!
আখের গোছানোর ধান্দায় ব্যস্ত। দেশ বিক্রি করে বিত্ত- বৈভবের চিন্তায় অভ্যস্ত। আমি শুধু আমাকে
নিয়ে চিন্তা করি। আমাদের নিয়ে ভাবি না। অর্থাৎ গোটা জাতিকে নিয়ে চিন্তা করি না। অথচ
নেতা হতে গেলে তার মধ্যে প্রথমত আদর্শ থাকতে হয়। দর্শন থাকতে হয়। দুর্নীতিমুক্ত হতে হয়। তবেই
তিনি নেতা। নেতার ভেতরে আদর্শ নেই, গণতন্ত্র নেই। তিনি আবার গণতন্ত্রের বড় প্রবক্তা। গণতন্ত্র
প্রতিষ্ঠায় মুখ থেকে অবিরত ঢেঁকুর তুলছেন। গণতন্ত্র চর্চার কথা বলছেন। নানাভাবে গণতন্ত্রের সজ্ঞা
দিচ্ছেন। কী অদ্ভুত চরিত্র? নেতানেত্রীদের কি অদ্ভুত চিন্তা-চেতনা? একজন বিপ্লবীর মৃত্যু
আছে। কিন্তু বিপ্লবের কখনও মৃত্যু হয় না। আদর্শ কখনও ধ্বংস হয় না। এখন আদর্শের কোনো লড়াই
নেই। চলছে শুধু ক্ষমতা দখলের পালাবদলের লড়াই। হালুয়া-রুটি ভাগাভাগির লড়াই। রাজনৈতিক একজন কর্মীর
মধ্যে নেই কোনো চেতনা। নেই কোনো প্রশিক্ষণ। তার মধ্যে কীভাবে গড়ে উঠবে রাজনৈতিক চিন্তা
চেতনা? কীভাবে তিনি হয়ে উঠবেন গণতন্ত্র মনষ্ক একজন উদার মনের মানুষ? কীভাবে ধারাবাহিকভাবে
কর্মী থেকে নেতা হবেন? এসব ব্যাপারে নেই কোনো চর্চা। শুধু চলছে পদ-পদবি দখলের অসম
প্রতিযোগিতা। চলছে অবৈধ টাকার ছড়াছড়ি। পদ দখলের ভাগাভাগি। একটি অনাদর্শিক রুগ্ন চেতনার
ওপর ভর করে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠছে। সেখানে অখ্যাত, বিখ্যাত হবে। কর্মী নেতার চেয়ার দখল
করবে। পণ্ডিতরা অনুশোচনা করবে । এক কথায় হারিয়ে যাবে। পালিয়ে যাবে। মেধাহীনদের সর্বত্র জয়জয়কার
থাকবে। মোসাহেবদের নোংরা পদচারণা থাকবে। এখানে অবাক বিস্ময়ের কী আছে? কোথায় নেতা,
কোথায় কর্মী এক সময়ে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে হাটে-মাঠে ঘুরেছি। শীর্ষ পর্যায় থেকে
তৃণমূল পর্যন্ত রাজনীতির মাজেজা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছি। কী অদ্ভুত দেশ? পোস্টার লাগাতে
এখন কর্মী খুঁজে পাওয়া যায় না। এতো নেতার হিড়িক যে সভা পরিচালনায় একজন কর্মী পাওয়া যায়
না। অতি নেতা পাতি নেতা সব এখন স্টেজে বসেন। তারা মনে করেন নেতার পাশে দাঁড়াতে পারলে জীবন
ধন্য। নেতার সাথে ছবির একটি পোজ নিতে পারলে আরও ধন্য। অনেক চোর-ডাকাত, শীর্ষ সন্ত্রাসী
জাতীয় নেতানেত্রীর সাথে একটি ডিজিটাল ব্যানার হাটে-মাঠে ছবি সেঁটে দিতে পারলে তার চৌদ্দ
পুরুষের জীবন ধন্য। এক কথায় বিশৃঙ্খল পরিবেশে চলছে গোটা রাজনৈতিক অঙ্গন । এ সবের কারণ কী?
কারণ পরস্পরের মধ্যে আদর্শিক চেতনার অভাব। যার ফলে অনাদর্শিক চেতনায় আকৃষ্ট একটি বিশেষ মহল
সংঘবদ্ধ হতে থাকে। অবৈধ সম্পদ টিকিয়ে রাখার জন্য তাদের মধ্যে নেতা হবার খায়েশ জাগে। অতঃপর হালে
তারা হয়েছেন কালো টাকার মালিক। তারা পালিশের জোরে, টাকার জোরে, আলু-কচু-বাগদা মাছ
সরবরাহের জোরে এক ধাপে কর্মী থেকে নেতা মনোনীত হন। তাদের কাছে আদর্শ বড় বালাই। এসব কারণে
বাংলাদেশে সঠিক নেতৃত্ব গড়ে উঠতে পারছে না। জ্ঞানী-গুণীরা রাজনীতির ময়দান থেকে পালিয়ে
যাচ্ছেন। আর এই ময়দান হাল জামানায় দখল করে রেখেছে চাটুকার, মোসাহেববাজ এক শ্রেণির
বাজিকররা।

এই জাতীয় আরো খবর

Back to top button