আইন ও আদালতজাতীয়ঢাকাবিশেষ প্রতিবেদনলিড নিউজসারাদেশহাইলাইটস

‘এমএলএম’ নামক জাদুর চেরাগে আজ কোটিপতি সাবেক সেনা কর্মকর্তা সোহেল ও হকার হানিফ

নিশান গ্রুপ ও আরএইচপি সুপার শপের প্রতারণায় সর্বশান্ত হাজারও পরিবার

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক: সারাদেশেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ই-কমার্সভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মকে প্রতারণার বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল এক শ্রেণীর প্রতারক চক্র। স্বল্প সময়ে জনপ্রিয়তা লাভ করা এ প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক কৌশলের আড়ালে প্রতারণার শক্ত জাল ছড়িয়ে রাখে তারা, আর তাদের চটকদার অফারের ফাঁদে পড়ে লাখ লাখ টাকা খুইয়ে আজ পথে বসেছে হাজারও পরিবার। সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক বিজয় বাংলাদেশ পত্রিকা কতিপয় গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নামলে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। মাসব্যাপী নিয়মিত সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে প্রশাসনের, শুরু হয় শুদ্ধি অভিযান, যা এখনও চলমান রয়েছে। অভিযানে একের পর এক আটক হয় ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ওয়াল্ডট্র্যাক, অ্যামাসবিডিসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিরা। গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে অনেকে রয়েছেন কারাগারে, আবারও অনেকে গ্রেপ্তার এড়াতে দিয়েছেন গা-ঢাকা। তবে অদৃশ্য এক ইশারায় প্রশাসনের শক্ত নজরদারি এড়িয়ে এখনও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে কতিপয় প্রতিষ্ঠান। জাতীয় দৈনিক বিজয় বাংলাদেশ পত্রিকার আজকের সংখ্যায় পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হয়েছে প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া এমন দু’টি প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার কয়েকটি কৌশল।
রাজধানীর অভিজাত এলাকা উত্তরায় জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে নিশান গ্রুপ, যার কর্ণধার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোঃ সোহেল। সদ্য অবসরে যাওয়া সেনা কর্মকর্তা সোহেল গত চার বছর ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন আবাসন ব্যবসা, আর এই ব্যবসায়ের আড়ালে প্রতারণার বিবিধ প্যাকেজ তথা গ্রাহক ঠকানোর কৌশলের খন্ডচিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
(১) বেসিক প্যাকেজ ঃ গ্রাহকের বিনিয়োগ আটশত টাকা, দৈনিক আয় ১০ টাকা, দৈনিক কাজ একটি বিজ্ঞাপন দেখা।
(২) সিলভার প্যাকেজ ঃ গ্রাহকের বিনিয়োগ সাত হাজার দুইশত টাকা, দৈনিক আয় ১০৫ টাকা, দৈনিক কাজ একটি বিজ্ঞাপন দেখা।
(৩) প্লাটিনাম প্যাকেজ ঃ গ্রাহকের বিনিয়োগ পয়ত্রিশ হাজার দুইশত টাকা, দৈনিক আয় ৫২৫ টাকা, দৈনিক কাজ একটি বিজ্ঞাপন দেখা।
(৪) গোল্ড প্যাকেজ ঃ গ্রাহকের বিনিয়োগ সত্তর হাজার তিনশত টাকা, দৈনিক আয় ১০৫০ টাকা, দৈনিক কাজ একটি বিজ্ঞাপন দেখা।
(৫) ডায়মন্ড প্যাকেজ ঃ গ্রাহকের বিনিয়োগ এক লক্ষ চল্লিশ হাজার দুইশত টাকা, দৈনিক আয় ২১০০ টাকা, দৈনিক কাজ একটি বিজ্ঞাপন দেখা।
(৬) ভিআইপি প্যাকেজ ঃ গ্রাহকের বিনিয়োগ তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার দুইশত টাকা, দৈনিক আয় ৫২৫০ টাকা, দৈনিক কাজ একটি বিজ্ঞাপন দেখা।
প্রতিষ্ঠানটির পেমেন্ট অপশন হিসেবে রয়েছে বিকাশ, নগদ, রকেট এবং ব্যাংক আকাউন্ট। অফারে রয়েছে, গ্রাহক পেমেন্ট পাবেন ১ (এক) দিনের মধ্যেই, রেগুলার আইডির গ্রাহকরা নিজেদের আইডিতে ৩০০ টাকা হলেই তুলতে পারবেন টাকা। তবে অন্য প্যাকেজের আইডি কেনার এক মাস পর টাকা তুলতেন পারবেন অন্য গ্রাহকরা।
এদিকে, নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলায় এক মুদি দোকান দিয়ে রাতারাতি কোটিপতি বনে গিয়েছেন হকার হানিফ। হানিফের হঠাৎ কোটিপতি হওয়ার রহস্য উন্মোচনে অনুসন্ধানে গেলে পাওয়া যায় আরএইচপি সুপারশপ নামক ছোট্ট একটি মুদি দোকান, যেখানে কর্মচারী মাত্র একজন। তথ্যানুসন্ধানে যাওয়া অনুসন্ধানী টিম হকার হানিফের মুদি দোকান দেখে হতচকিয়ে যান। কিন্তু আস্তে আস্তে বেড়িয়ে পড়ে মুদি দোকানের আড়ালে হকার হানিফের প্রতারণার কৌশল। অনুসন্ধানে জানা যায়, হানিফ মিয়া কয়েক দিন আগেও মাত্র সাত হাজার টাকা বেতনে বিক্রয় প্রতিনিধি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠানে। তবে কয়েকটি এমএলএম কোম্পানিতে বিগত দিনে কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় নিজেই খুলে বসেন আরএইচপি নামক একটি সুপার শপ ও শুরু করেন অনলাইনে প্রতারণা ব্যবসা। আর এতেই তিনি আজ কোটিপতি। কিছুদিন আগে অন্যের কাছে হাত পেতে সংসার চালানো হকার হানিফ আজ খান বেনসর সিগারেট, শুধু তাই নয় সম্প্রতি সাড়ে তিন কোটি টাকা দিয়ে গার্মেন্টস ব্যবসায়ের জন্য এলসিও করেছেন হানিফ বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়। স্কুলের গ-ি পার করতে না পারা হানিফ আজ গড়ে তুলেছেন নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী, নিয়মিত মাসোহারা দেন স্থানীয় প্রশাসনসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের, বাদ যায় না আঞ্চলিক সংবাদকর্মীরাও। ঘটনার সত্যতা মেলে যখন অনুসন্ধানী টিমের ওপর হামলা করতে রীতিমতো ঝাপিয়ে পড়ে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীবৃন্দ, সাথে যোগ দিয়েছিল আঞ্চলিক সংবাদকর্মীরাও। একপর্যায়ে দৈনিক বিজয় বাংলাদেশের অনুসন্ধানী টিমকে ঘায়েল করতে না পেরে সংবাদ প্রকাশ না করার শর্তে প্রস্তাব দেওয়া হয় সমঝোতার, সাথে লোভনীয় মোটা প্যাকেট। তাতেও সাড়া না পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে হকার হানিফ। দ্বিগুন অর্থ ব্যয়ে অন্য একটি দৈনিকের কতিপয় সংবাদকর্মীকে হাত করে ফোন দেন বিজয় বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদককে। অনৈতিক অর্থ গ্রহণের অভিযোগ আনেন ঐ অনুসন্ধানী টিমের সদস্যদের ওপর। কিন্তু দমে যায়নি বিজয় বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিনিধিদের অনুসন্ধানী কলম।
আগামী সংখ্যায় পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হবে, সদ্য অবসরে যাওয়া সেনা কর্মকর্তা সোহেলের কোটি টাকার নেপথ্যের উৎস। চোখ রাখুন বিজয় বাংলাদেশের পরবর্তী সংখ্যায়।

এই জাতীয় আরো খবর

Back to top button