বিশেষ প্রতিবেদনসাব লিড

কয়লার বিষাক্ত গ্যাসে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী

স্টাফ রিপোর্টার

কয়লার কারণে সবসময়ই বাতাসের ধুলা ও ধোঁয়া ছড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। শিশু, বয়স্কসহ সব বয়সের মানুষ ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় বাউরিয়া পুরাতন ফেরিঘাট থেকে শুরু করে কাজী ফার্ম পর্যন্ত রাস্তার পাশে কয়লার ড্যাম্প (কয়লার স্তুপ) গড়ে তোলা হয়েছে। এসব কয়লার বিষাক্ত গ্যাসে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যস্ততম এ সড়কটির পাশে উন্মুক্ত ভাবে কাজী ফার্মস সংলগ্ন এলাকায় কয়লা ব্যবসা করছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। কয়লা জাহাজ ও ট্রাক লোড-আনলোডের ফলে বাতাসে কয়লার ধুলায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, জনবসতির দেড় কিলোমিটারের মধ্যে কয়লার ডিপো করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া কয়লার স্তূপে উঁচু দেওয়াল দিয়ে ঘিরে রাখার বিধানও রয়েছে।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা মো. তৌফিক আহম্মদ জানান, প্রতিনিয়িত ঘরের দরজা-জানালা, আসবাবপত্র, পোশাক-পরিচ্ছদে কয়লার ধুলা পড়ছে। এমনকি ধুলা পড়া খাবারও খেতে হচ্ছে তাদের।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কয়লার ডিপো সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন সময় স্মারকলিপি, মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হলেও পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা অন্যকোনো কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এলাকাবাসী মো. আজিম চৌধুরী জানান, রাসায়নিক এই কয়লার বিষাক্ত ধুলা ও ধোঁয়ায় তার পরিবারের প্রায় সবাই শ্বাস-প্রশ্বাস কষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া তার পরিবারের সদস্যদের প্রতিনিয়ত মাক্স ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এদিকে জাহাজ থেকে কয়লা মাথায় বহন করে নামানোর জন্য প্রতিদিন কাজ করেন শত শত শ্রমিক। এসব শ্রমিক সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়া কাজ করায় কয়লার গুঁড়া শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ঢুকে পড়ছে তাদের ফুসফুসে। ফলে শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। ক্যান্সারসহ নানা রোগের ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকরাও।

আমদানি করা কয়লা প্রথমে জাহাজ থেকে নামিয়ে পুরাতন ফেরিঘাট থেকে শুরু করে কাজী ফার্ম এলাকা পর্যন্ত ড্যাম্প করে রাখা হয়। তারপর পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কয়লা কিনে তা ট্রাকে লোড করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, খোলা আকাশের নিচে রাসায়নিক এই কয়লা ড্যাম্প করায় মহাসড়ক, নদীপথ ও রাস্তার পাসে থাকা গাছগুলো মারা যাচ্ছে। কয়লার কারণে সবসময়ই বাতাসের ধুলা ও ধোঁয়া ছড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। শিশু, বয়স্কসহ সব বয়সের মানুষ ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাছাড়া কয়লার পোড়া দুর্গন্ধে চাষিরচরের বাতাস বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। মাঝে-মধ্যে কয়লার স্তুপে আগুনের কালো ধোঁয়া নির্গত হতে দেখা যায়। সমাজের প্রভাবশালীরা এই ব্যবসায় জড়িত থাকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেও এর কোনো পরিত্রাণ পাওয়া যাচ্ছে না।

কয়লার গ্যাসে স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, “কয়লার গ্যাস ও ধোঁয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। যত্রতত্র কয়লা রাখার জন্য শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসজনিত সমস্যা নিয়ে এলাকার অনেক রোগী প্রতিদিন হাসপাতালে আসছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আরশাদ কবির জানান, সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই কয়লা বহনের কাজ করলে শ্বাসকষ্ট, ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। পাশাপাশি ধুলা ও কয়লা গুঁড়ার কারণে ফুসফুসের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্রগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ ও দীর্ঘমেয়াদি কাশি হয়ে থাকে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সেটা যক্ষ্মার রূপ ধারণ করে।

এই জাতীয় আরো খবর

Back to top button