জাতীয়বিশেষ প্রতিবেদনরাজনীতি

গাজীপুরের উত্তপ্ত আওয়ামী রাজনীতি !

মৃণাল চৌধুরী সৈকত

গত কয়েকদিন যাবৎ শিল্পাঞ্চলখ্যাত গাজীপুর মহানগরে ক্ষমতাসীন সরকারী দলের দু-পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে লড়াই চলছে হরদম । একই দলের নেতারা দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে লড়াইয়ের ময়দানে অবর্তিণ ! দু-পক্ষের মধ্যে চলমান এ লড়াই থামবে কি ? কবে নাগাদ থামবে তা কারো বোধগম্য নয়।  এ লড়াইয়ের কারণ নিয়েও রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মতানৈক্য। ‘হাজারো বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান’কে নিয়ে কটুউক্তি করাকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের আওয়ামী রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্ট হয়েছে একই দলে দুটি পক্ষ এবং দু-পক্ষে চলছে হার-জিতের লড়াই। চলছে উভয় পক্ষের ক্ষমতা প্রদর্শন ? চলছে ক্ষমতা রতবদল বা সিংহাসন ভাগ-ভাটোয়ারার চেষ্টা ! এমনটাই মনে করছেন অনেকে।

গাজীপুরবাসী অনেকেই বলছেন, বঙ্গবন্ধু’কে নিয়ে কটুউক্তির প্রতিবাদ হবে হোক, যাঁরা কটুউক্তি করেছে তাদের কোন ছাড় দেয়া উচিৎ নয়। তবে ঘটনার তদন্ত এবং সত্যতা যেমন জরুরী, এ ঘটনার সাথে জড়িত যেই হোক না কেনো, সনাক্ত পূর্বক শাস্তি প্রদান করাও অত্যন্ত  জরুরী। কিন্তু, তা না করে, একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলের শৃংখলা বা নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বিশৃংখলা সৃষ্টি করত: জন-সাধারনের মধ্যে নিরাপত্তা বিঘ্ন বা জন-দূর্ভোগ সৃষ্টিসহ জন-সাধারণ বা অন্যান্য দলের কাছে নিজেদের হীনমন্যতার বহি:প্রকাশ ঘটানো এবং তাদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করা নেহাতই দলের গঠনতন্ত্র পরিপহ্নি বৈকি।

আবার এমনও শোনা যায়, দলের বিভিন্ন পদে অনু-প্রবেশকারী তৃতীয় পক্ষের দলবাজী’র কারণও হতে পারে এ ঘটনাটি। যা দলে ক্ষতি’র কারণ হতে পারে নির্ভিগ্নে।

তাছাড়া, গাজীপুরে সু-সংগঠিত আওয়ামীলীগের ঘাটি ভাংতে বা দলে বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে দলের মধ্যে অনু-প্রবেশকারীরা এমনটা করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসছে গত দু-দিন যাবৎ। কারণ, যাই হোক না কেনো, দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের শৃংখলা ভঙ্গ বা নিয়মনীতির বাইরে কেউ নয় । তাছাড়া দেশের প্রচলিত বিজ্ঞ আইন-আদালত তো রয়েছেই। তারপরও দলের মধ্যে সৃষ্ট দুটি পক্ষ প্রতি মূহুর্তে এগিয়ে যাচ্ছে সংঘাতের পথে ! যা গাজীপুরবাসী কারো কাম্য নয়।

গাজীপুরের পবিত্র মাটিতে‍ জন্ম হয়েছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা-শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা-শহীদ ময়েজ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা-শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আকম মোজাম্মেল, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মোজাম্মেল এর মতো অসংখ্য নেতাসহ জ্ঞানী এবং গুনিজনদের। সেই মাটিতে কেউ “জাতির জনক বঙ্গ বন্ধু শেখ মজিবর রহমান”কে নিয়ে কটুউক্তি বা সমালোচনা করবে এটা সত্যি লজ্জাজনক, যা মেনে নেয়া যায় না। তদুপরি ‘বাংলা ও বাঙ্গালীর শ্রেষ্ট সন্তান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান’কে নিয়ে সমালোচনা বা কটুউক্তিসহ সরকার দলীয় মাঠ পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে আওয়ামীলীগ নেতাদের মধ্যে পাল্টা-পাল্টি চলমান যত্বসব কান্ড-জ্ঞানহীন কর্মকান্ড, বিক্ষোভ-প্রতিবাদ-কুশপুত্তলিকা দাহ ইত্যাদি-ইত্যাদি সত্যি লজ্জাস্কর ! এতে করে গাজীপুরবাসীর মধ্যে যেমন উৎকণ্ঠা বাড়ছে, তেমনী বাড়ছে জন-দূর্ভোগ। সরকার দলীয় গাজীপুরের স্থানীয় নেতাদের এহেন কান্ড-জ্ঞানহীন আচরণ এবং কর্মকান্ডে বিস্মিত ও স্তম্ভিত এ অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ ! সেই সাথে সুযোগ নিচ্ছে সরকার বিরোধী তৃতীয় একটি পক্ষ, যা বলার অপেক্ষা রাখে না।

গাজীপুরে সম্প্রতি সরকারী দলের নেতাদের সৃষ্ট দুটি পক্ষের মধ্যে বিরাজমান বর্তমান পরিস্থিতি এবং সৃষ্ট সকল ঘটনার সুষ্ট  ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দলে বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী জড়িতদের চিহ্নিত করণসহ প্রয়োজনীয ব্যবস্থা গ্রহন পূর্বক গাজীপুরবাসীর জানমাল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করত: দলের মান-সন্মান অক্ষুন্ন রাখতে আর দলের অভ্যন্তরে সূ-শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে-কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ জরুরী ? আমরা গাজীপুরবাসী এবং খেটে খাওয়া সাধারণ শ্রমজীবি মানুষ সর্বদাই- শৃংখলাবদ্ধ-শান্তিপূর্ণ-মূলধারার রাজনীতি এবং অনু-প্রবেশকারীহীন-নিঃস্বার্থ-স্বচ্চ-সৎ-সমাজ সংস্কারবাদী রাজনীতিবিদদের পক্ষে। ঘরে বাইরে ঝগড়া নয়, চাই ঐক্য এবং শান্তি’র বারতা। সেই সাথে চাই, গাজীপুরে  আওয়ামী রাজনীতি’র উত্তপ্ততার অবসান। চাই, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ এবং জরুরী সমাধান॥

##

মৃণাল চৌধুরী সৈকত

কবি, সাংবাদিক, সংগঠক

এই জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button