বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার এর সফলতার দিনগুলো

SP Shamsunnahar

বাংলাদেশ পুলিশের উজ্ঝল নক্ষত্র গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম। যার জন্ম হয় ফরিদপুরের সদর উপজেলার চর মাধবদিয়াা ইউনিয়নে। পিতা মো. শামসুল হক মাস্টার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আইনজীবী।

মা আমিনা বেগম ‘রত্নগর্ভা’ সম্মানে ভূষিত। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি-ই সবার বড়। শৈশবে তিনি গ্রামের স্কুলে পড়াশুনা করেছেন।

পরবর্তীতে ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি এবং সারদা সরকারি সুন্দরী মহিলা কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে শামসুন্নাহার বিবাহিত। স্বামী মো. হেলাল উদ্দিন একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং আমেরিকা প্রবাসী। তিনি এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জননী।
বিভিণœ তথ্য সূত্রে জানা যায়, শামসুন্নাহার নিজ জেলা ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি এবং সারদা সরকারী সুন্দরী মহিলা কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করে ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

ঢাকা বিশ্ব-বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বিএসএস সম্মান ও ১৯৯৮ সালে এমএসএস ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল পাশ করে স্কলারশীপ নিয়ে ২০০৭ সালে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে থাকাকালীন বিএনসিসিতে নাম লেখান। ওই সময় সেরা ১০ ক্যাডেটের মধ্যে একজন হিসেবে রাইডার ফ্লাইংয়ে সুযোগ পান তিনি।

বিএনসিসিতে থাকার সময়েও তিনি প্যারেড করেছেন, অস্ত্র ধরেছেন দুর্দান্ত সাহসিকতার সাথে। বিএনসিসির পোশাক, নিয়মশৃঙ্খলা দেখে পুলিশ বিভাগে কাজ করার আগ্রহ সৃষ্টি হয় ওনার।

সে দিক থেকে বিসিএস পরীক্ষায় তার প্রথম পছন্দ ছিলো পুলিশ প্রশাসন। আর তাই ২০তম বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ২০০১ সালে সহকারী পুলিশ সুপার পদে মানিকগঞ্জ জেলায় সরকারী চাকুরিতে যোগদান করেন।

পরবর্তীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, পুলিশ সদর দপ্তর, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে অত্যন্ত সফলতার সাথে সরকারী দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি গত ১৫ অক্টোবর ২০১৫ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার এবং ২৬ আগস্ট ২০১৮ থেকে গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে সাহসিকতা, সততা, নিষ্ঠা, একতা, নম্রতা ও ভদ্রতার সহিত দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি পেশাগত ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন।

দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে : যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালী, ভ্যাটিকান সিটি, অস্ট্রেলিয়া, পূর্ব তিমুর, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াা, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, দুবাই ও কাতার।

দেশের সর্ব প্রথম নারী পুলিশ সুপার হিসেবে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে পুলিশ সপ্তাহের প্যারেডে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে পরপর দু’বার নেতৃত্ব দিয়ে বিরল ইতিহাস সৃষ্টি করেন মহিয়সী নারী।

মেট্রোপলিটন পুলিশ, রেঞ্জ পুলিশ, আর্মড পুলিশ, ও র‌্যাবসহ ১৩ টি দলের সহ¯্রাধিক সদস্যের প্যারেডে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।
কর্ম ভাবনা থেকে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে তার কার্যালয়ে নারী সেল গঠন করেন।

এতে প্রতিনিয়ত বিচারপ্রার্থীরা বিভিন্ন শ্রেনী পেশার নারীরা এসে ভিড় করে এবং মামলাবিহীন পারিবারিক কলহসহ নারী ও শিশু সংক্রান্ত বিষয় মিমাংসা করে থাকেন।
বিভিন্ন ভাবে জানা যায়, ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের শাখা অফিস ইতালিতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০০৯ ও ২০১০ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের দায়িত্ব পেয়ে পূর্ব তিমুরে পুলিশের মানবসম্পদ উন্নয়ন কর্মকান্ডের দায়িত্ব পালন করে সুনাম কুড়িয়েছেন।

শুধু তাই নয়, এই পুলিশ কর্মকর্তা জাতিসংঘে পুলিশের উচ্চপদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব¡ পালনের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন ৭ বার জাতিসংঘ শান্তি পদক (২০০৯ -২০১৪) এবং সাহসী নারী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নারী পুলিশ পদক (২০১৬), বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (২০১৮) ও উইমেন লিডারশিপ এ্যাওয়ার্ড-২০১৬সহ দুই বার আইজি ব্যাজ প্রাপ্ত হয়েছেন।
সবচেয়ে মজার ব্যবপার হলো, মিসেস শামসুন্নাহার পেশাগত ও সরকারী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সঙ্গীত চর্চাও করে থাকেন অনায়াসে।

চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার থাকাকালীন তিনি চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমীতে স্ব-কন্ঠে গান পরিবেশন করে দর্শকনন্দিত হয়েছিলেন এবং বিষয়টি স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম খুব রসালো ভাবে প্রকাশ হয়েছিলো।

এখনো তিনি সুযোগ পেলেই সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করে থাকেন। শামসুন্নাহারের সর্বাধিক পছন্দ হলো নজরুলগীতি। এছাড়া তিনি ছোটবেলা থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত শিল্পীও বটে।
ইতিপূর্বে চাঁদপুর ও বর্তমানে গাজীপুর জেলায় মাদক ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ ও নারী নির্যাতন মোকাবিলায় সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে তিনি অনুকরণীয় অবদান রেখে চলেছেন।

ফরিদপুরের মেয়ে পুলিশ সুপার হিসেবে চাঁদপুরবাসীর মন জয় করে এবার শ্রমিক অদ্যুষিত গাজীপুরবাসীর মনের মনিকোটায় ঠাঁই করে নিয়েছে অনায়াসে।

বাংলাদেশ পুলিশের একজন কর্মকর্তা হয়েও দেশব্যাপী হয়ে উঠেছেন নারী নেতৃত্বের আইকন।
গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মিসেস শামসুন্নাহার পিপিএম গাজীপুরে দায়িত্বভার নেয়ার পরপরই টঙ্গীর বিসিক এলাকার টিভোলী এ্যাপারেলস নামে একটি গার্মেন্টস কারখানায় বেতন ভাতা পরিশোধের দাবীতে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ কারখানার ৪ জন শ্রমিককে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এ খবর পেয়ে গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মিসেস শামসুন্নাহার পিপিএম দ্রুত ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে।

ওনার কর্মযোগের দায়িত্ব আর সেদিনের ভূমিকা দেখে আমি অবাক না হয়ে পারিনি। সেদিন থেকেই এই মহিয়সী নারীকে নিয়ে পত্রিকায় কিছু লিখবো মনস্থির করে রেখেছিলাম।

কিন্তু সময় আর সুযোগের অভাবে তা করতে পানিনি। বলাবাহুল্য যে, চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার থাকাকালীন ওনাকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত লেখা অনেক পড়েছি এবং জেনেছি ওনার সর্ম্পকে।

আজ হঠাৎ জাতীয় দৈনিক ‘বিজয় বাংলাদেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মহোদয় পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএমকে নিয়ে প্রতিবেদন করার নির্দেশটা ফেলতে পারিনি।

আর তাই ওনার উপর প্রতিবেদনটি সাজাতে গিয়ে বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত্য সংগ্রহের সময় জানা যায়, তিনি বাল্য জীবন থেকেই হতে চেয়েছিলেন একজন প্রতিষ্টিত আইনজীবী।

পরিবার ওস্বজনরাও সেই স্বপ্ন জ্বালিয়ে দিয়েছিলো তার অন্তরে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় আইন বিষয় না পাওয়ায় কিছুটা হতাশ হয়েছিলেন ততাপিও তাকে পড়াশোনা করতে হলো রাষ্ট্রবিজ্ঞানে নিয়ে।

অনার্স করার সময় বিএনসিসিতে সেরা ১০ ক্যাডেটের একজন হিসেবে রাইডার ফ্লাইংয়ে সুযোগ পেয়ে যান। বিএনসিসিতে থাকার সময় প্যারেড করেছেন, অস্ত্র ধরেছেন। তাদের পোশাক, নিয়মশৃঙ্খলা দেখেই পুলিশ হবেন মনস্থির করলেন। সেই থেকে শুরু হয় পথচলা।
তথ্যসূত্রে প্রকাশঃ ইতিমধ্যে একজন নারী পুলিশ সুপার হিসেবে সবার দেশে নারী পুরুষ বৃদ্ধ বর্ণিতা সকলের নজর কেড়েছেন এসপি শামসুন্নাহার।

শুরুর দিকে নারী এসপি বলে যারা শামসুন্নাহারকে নিয়ে শংশয়ে ছিলেন তারাও আজকাল ওনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। গাজীপুরে সন্ত্রাস, মাদক ও নারী নির্যাতন রোধে সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে প্রশংসনীয় ভূমিকার নাম মিসেস শামসুন্নাহার।

নিজেই শিশুদের সঙ্গে ভ্যানে চড়ে, বাদ্য-বাজনা নিয়ে ছুটছেন গ্রামে, গঞ্জে, বাজারে-বন্দরে, স্কুলে বা কলেজে। হচ্ছে রচনা প্রতিযোগিতা। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে খুলেছেন নারী ও শিশু সহায়তা কেন্দ্র।

পুলিশি সহায়তার প্রত্যাশীরা সমস্যার দ্রুত সমাধানের আস্থাভাজন হিসেবে পাচ্ছেন তাকে সর্বদাই। পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম বলেন, এক সময় জজ-ব্যারিস্টার হতে চেয়েছিলাম।

তা হতে পারিনি। কিন্তু সে ব্যর্থতা ছাপিয়ে আরও বড় জায়গায় আসতে পেরেছি কিনা জানি না তবে পিছিয়ে নেই বলেই মনে করি। একজন পুলিশ সুপার হিসেবে মানুষের জন্য অনেক কিছু করার সুযোগ পেয়েছি। এখন নিয়মিত পুলিশি সহায়তার পাশাপাশি নির্যাতিত নারীদের সমস্যার কথা শুনতে ঘরে ঘরে পৌঁছাতে চাই।

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার ও মুক্ত মনের অধিকারীনি, স্নেহ মায়া মমতায় সৃষ্টি এবং একজন মানবতার প্রতিকী সেবিকা মিসেস শামসুন্নাহার যে স্বপ্ন দেখেন এবং তা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেন সেই স্বপ্ন ছুঁয়ে এবং মানবতার পথে এগিয়ে আসুক বাঙ্গালী সকল নারীরা, পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম এর মতোই সকল বাধাকে উপেক্ষা করে দেশের নারীরা হোক আরো প্রাণচাঞ্চল্য পরিশ্রমি।

সেই সাথে বাংলাদেশের মাটিতে একজন সৎ ও সাহসী কর্মধক্ষ্য পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে মিসেস শামসুন্নাহার দীপ্ত গতিতে এগিয়ে যান এটাই প্রত্যাশা আমার ও আমাদেও সকলের।

0Shares

ভিন্ন খবর