করোনা আপডেট

জনগনের উদাসীনতা এবং লুকোচুরিতে বাধাগ্রস্ত কঠোর লকডাউন, বাড়ছে সংক্রমণ

মো. আশরাফুল আলম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি-

করোনা সংক্রমণ ও বিস্তার রোধকল্পে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক আরোপিত বিধি-নিষেধ মানতে অনীহা।  জনগনের উদাসীনতা, অসচেতনতা এবং লুকোচুরিতে ব্যাহত হচ্ছে  কঠোর লকডাউনের মুল উদ্দেশ্য। ফলে করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবার আশংকা।

সরকার কর্তৃক ১৫দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষনা করা হলেও প্রথম ২/১ দিন পরিস্থিতি অনুকুলে থাকলেও বর্তমানে মানুষকে ঘরে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে বেগ পেতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য বিধি এবং লকডাউনের শর্তমানতে ব্যাপক অনীহা লক্ষ করা গেছে। অনেক মানুষকেই বিনা প্রয়োজনে বাহিরে বেড় হয়ে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে দায়িত্ব পালন করলেও  এলাকার ব্যবসায়ী  প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম। ফলে কিছু দোকানী ঘরের দরজা অথবা সার্টার বন্ধ করে দোকানের মধ্যেই অবস্থান করে। পুলিশ অথবা ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম চলে যাওয়ার সাথে সাথে আবারও দোকান খুলে বসে। এভাবে শর্ত ভঙ্গ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার ফলে কিছু মানুষ কেনা কাটা করতে বাহিরে বের হয়ে সংক্রমনের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। লকডাউনের কার্য়কারিতা সম্পর্কে জানতে  চাইলে কলেজ শিক্ষক মুজিবুল হক জানান, সরকার ঘোষিত লকডাউন সকলের মানা উচিৎ। সাধারণ মানুষের উচিৎ হবে লকডাউনের সকল শর্ত মেনে সরকারকে সহযোগিতা করা। আজ আমরা মহামারীতে বিপর্য়স্ত হয়ে প্রতিকুল অবস্থার মধ্যে আছি। সারা বিশ্ব যেখানে এই রোগোর বিস্তার রোধ কল্পে লকডাউকে কার্য়কর করে সুফল পেয়েছে সেখানে আমাদের দেশের মানুষ অনেকটাই উদাসীন। এক্ষেত্রে প্রশাসনকে আরও বেশি কঠোর অবস্থানে যাওয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাকসুদার রহমান সাহান জানান, সরকারের ঘোষিত কঠোর লকডাউনকে সমর্থন করে আমাদের ব্যবসায়ীদেরকে একটু হলেও কষ্ট স্বীকার করে এই করোনা রোগের বিস্তার রোধে সরকারী পদক্ষেপকে সহযোগীতা করা উচিৎ হবে। সাময়িক কষ্টকে মেনে নিয়ে আগামী দিনের সুন্দর স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে সকলের প্রতি আহব্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যারা ফুটপাতে ব্যবসা করতেন তাদের কে প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যারা ব্যাংকে ঋণের আওতায় পরে না তাদেরকে এককালীন আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহব্বান জানাচ্ছি।    

অন্যদিকে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক মাঠে তৎপর রয়েছে জেলা প্রশাসন,  আনসার, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনী,। লকডাউন অমান্য করে বাহিরে ঘোরাঘুরি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখায় গাইবান্ধা শহর ও বিভিন্ন উপজেলা শহরে তৎপর রয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত কয়েক দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক জরিমানার অর্থের পরিমান ও মামলা সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায় যে মানুষ লকডাউন কি পরিমান অমান্য করছে। প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলায় তাদেরকে জরিমানা গুনতে হয়েছে। জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন স্থানে গত ২৬-২৮ জুলাই এই তিন দিনেই লকডাউন অমান্য করায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ২৪৬ টি মামলা পরিচালনা করা হয় এবং ১লক্ষ ৪৬ হাজার ১৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। লকডাউনের শুরুর দিন থেকেই জেলা প্রশাসনের ১০টি টিম  ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং এসিল্যান্ডদের নের্তৃত্বে  প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে আদালত পরিচালনায় টিম কাজ করছে। আদালত পরিচালনাকারী কর্মকর্তাগণ মানুষকে সচেতন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিনামুল্যে মাস্ক বিতরণ করেন।

এদিকে গাইবান্ধা জেলায় করোনা সংক্রমনের হার গত কয়েকদিনে একই রকম রয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সুত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় (২৮ জুলাই) র‌্যাপিড এ্যান্টিজেন্ট টেস্টে (আরএটি) ১৫২টি নমুনার বিপরীতে পজেটিভ রোগী পাওয়া গেছে ৫৫জন। অবশিষ্ট ৯৭ জনের নমুনা পলিমেরাস চেইন রিয়্যাকশন (পিসিআর) ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে একই দিনে আরটিপিসিআর-এ পূর্বের পাঠানো ২৭ জনের নমুনা থেকে পজেটিভ সনাক্ত হয়েছেন ১৫ জন। এনিয়ে উক্ত দিনে মোট সনাক্ত ৭০ জন। গতকাল পর্য়ন্ত জেলায় মোট সনাক্ত রোগী ৩ হাজার ৬৭৬ জন। হাসপাতালের হিসাব অনুযায়ী জেলায় এপর্য়ন্ত মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের এবং বর্তমানে বাড়ী এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১ হাজার ৬ জন রোগী।   

এই জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button