কৃষি ও জীবনরংপুরসারাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে আমন ধানের বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি

মোঃ শফিকুল ইসলাম দুলাল, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ

ঠাকুরগাঁওয়ে চলছে আমন ধান কাটার মহোৎসব। নতুন ধানকে ঘিরে এখন ঘরে ঘরে চলছে নবান্ন উৎসব। আমনের এবার বাম্পার ফলন হওয়ায় বুকভরা স্বপ্ন বুনছেন জেলার কৃষকরা। প্রতিটি ক্ষেত যেন সোনালি রঙের চাদর দ্বারা আবৃত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ মৌসুমে আমন ধানের আবাদ হয়েছে ২৯০ হেক্টর বেশি জমিতে।
শনিবার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে দেখা যায়, ঘরে ধান তুলতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন আমন চাষিরা। বাজারে প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে হাজার টাকায়। চলতি মাসের মধ্যে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের কহরপাড়া গ্রামের কৃষক আনসারুল হক বলেন, এবার ৪ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে ন্যায্যমূল্য পেলে ধানের ভুর্তকি দিতে হবে না। পাশ্ববর্তী বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, ২ বিঘা জমিতে সুমন স্বর্ণ চাষ করেছি। এখনো ধান বাড়ি আনিনি। খরচ বাদ দিয়ে ২ বিঘায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মত লাভ হবে বলে আশা করছি। নারগুন ইউনিয়নের পঞ্চায়েতপাড়া গ্রামের কৃষক সারাফুল ইসলাম বলেন, প্রতি বিঘা আমনের জমি চাষাবাদে ১০-১২ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে, আশা করছি বিঘায় ২০-২২ মন ধান পাবো।

স্থানীয় কৃষি উপসহকারী আলী হোসেন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় জাতের ধানের আবাদ কমে উফশী জাতের আবাদ বেড়েছে। বেশি ফলন হওয়ায় কৃষকদের হাইব্রিড ও উফশীতে আগ্রহ। এসব ধানে এবারও বাম্পার ফলন হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আবু হোসেন, বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর আমনের ভালো ফলন হয়েছে। কারণ আমনে তেমন সেচের প্রয়োজন হয় না, সার কম খরচ হয়। তাছাড়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ফলন বেশি হয়েছে। বাজারেও ধানের দাম ভাল। এমন দাম পেলে আগামীতে ধান চাষে এ অঞ্চলের কৃষকরা আরো উৎসাহ পাবেন।

এই জাতীয় আরো খবর

Back to top button