ঢাকালিড নিউজ

তুরাগে নব্য ভূমিদস্যু ও ফুটপাতের চাঁদাবাজ ওমর মিয়া’র খুঁটির জোর কোথায়?

প্রশাসনের উদাসীনতায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগীরা

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি, তুরাগ (ঢাকা): রাজধানীর তুরাগের ডিয়াবাড়ি এলাকায় হঠাৎ করেই উদয় হয়েছে নব্য ভূমি দস্যু ও ফুটপাতের চাঁদাবাজ এক সময়কার রং মিস্ত্রি আর্টম্যান খ্যাত সিরাজুল ইসলাম ওরফে ওমর মিয়া। টাকার বিনিময়ে এলাকার প্রভাবশালী একটি মহল নগ্নভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার পক্ষে। অন্যায়ভাবে অসহায় মানুষের কষ্টে অর্জিত জমি জবর দখল করতে নানা ধরনের মিথ্যা মামলা দেওয়া সহ জমি ছেড়ে না দিলে অসহায় মানুষদের নির্মম নির্যাতন ও প্রান নাশের হুমকি দিয়ে রাখেন দৌড়ের উপর। শুধু তাই নয় কেউ নিজের জমি বিক্রি করতে চাইলে তাকে তার হাত হয়ে বিক্রি করতে হয়।

এক সময়কার রং মিস্ত্রি আর্টম্যান খ্যাত সিরাজুল ইসলাম ওরফে ওমর মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা করে রায় পেয়েও জমির ভোগ দখলে যেতে করতে পারছেনা অনেক ভুক্তভোগী পরিবার। এক সময়কার রং মিস্ত্রি আর্টম্যান খ্যাত সিরাজুল ইসলাম ওরফে ওমর মিয়া দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে চালাচ্ছেন দুর্বলের উপর শক্তিমানের খেলা এবং রাজউকের জমি জবর দখল করে ঐগুলোতে দোকান পাট ভাড়া দেওয়াসহ আওয়ামী লীগের নামে অনেকটা জায়গা জুড়ে অফিস করে রেখেছেন। সিরাজুল ইসলাম ওরফে ওমর মিয়ার করাল গ্রাসী থাবায় দখল হয়ে গেছে ডিয়াবাড়ী এলাকার মোঃ খলিলুর রহমানের ছেলে রাসেল মাহমুদ গংদের একটি জমি। অপর দিকে বিআরটিএ অফিসের আশপাশের ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিরবে নিয়মিত চাঁদা নেন তিনি। আর তার এই নিরব চাঁদাবাজির কারনে গুমরে কাঁদেন অসহায় ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। তার এই চাঁদাবাজির কবল থেকে বাদ যাচ্ছেন না প্রতিবন্ধী, বিধবা নারী এমন কি রাস্তার ভিুকও। অনেক রাজনৈতিক নেতারাও সিরাজুল ইসলাম ওরফে ওমর মিয়ার মতার কাছে অনেকটা অসহায়। তার কথায় প্রশাসন ‘ওঠে আর বসে’-এমন প্রচারও চালান তিনি। প্রশ্ন হলো- ওমরের মতার উৎস্য কোথায়? তার এতোসব অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেনা কেউ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কামারপাড়া হাই স্কুল এর পাশে একটি ছোট্ট দোকানে রং মিস্ত্রি আর্ট ম্যান এর কাজ করতেন। একময় তার চলাফেরা ছিল জামাত শিবির বি এন পির সাথে।পরবর্তীতে হঠাৎ করে টাকার বিনিময়ে ২০০২ সালে সাবেক হরিরামপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহŸায়ক এর দায়িত্ব পান তিনি। আর এই দায়িত্ব পাওয়া মাত্র শুরু করে এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজি এবং বিচারের নামে প্রহসন। গরীব দুঃখী অসহায় মানুষকে গ্রাম্য শালিসের নামে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিত মোটা অংকের অর্থ। আর বিভিন্ন অপরাধ মূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে হয়ে ওঠেন এলাকার ত্রাস। আর তার এহেন কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে তৎকালীন হরিরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জনাব আবুল হাসিম সাহেব ২০১৪ তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করেন। বহিস্কার হওয়ার পর নিজেই তৈরি করেন তুরাগ হিতৈষী কমিটি। তার পরেও থেমে নেই সিরাজুল ইসলাম ওরফে ওমর মিয়ার দাঙ্গা- হাঙ্গামা, ভূমি দস্যুতা- চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড।

ডিয়াবাড়ি এলাকার জনৈক খলিলুর রহমান এর পুত্র রাসেল মাহমুদ সিরাজুল ইসলাম ওরফে ওমর মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে ২০১৬ সালে দেওয়ানি মোকদ্দমা করে দিয়াবাড়ী মৌজার মহানগর ৪৫৭/১ নং খতিয়নের ৩৯০,৩৯১ ও দাগে ৫.৫০ শতাংশ জমির রায় পেয়ে রাসেল মাহমুদ নিজ নামে নামজারি করেন এখনও পর্যন্ত নিজ জমিতে দখল পাচ্ছেন না ভূমিদস্যু আর্ট ম্যান ্যাত সিরাজুল ইসলাম ওরফে ওমর মিয়ার সন্ত্রাসী কর্মকাÐের কারনে এবং অপর একটি দেওয়ানি মোকদ্দমা বর্তমান এ আদালতে চলমান। রাসেল মাহমুদ গং দের সর্বমোট ৯:৫০ শতাংশ জমি ভূমি দস্যু সিরাজুল ইসলাম ওরফে ওমর মিয়া ও তাএকান্ত সহযোগীরা তার নিজের দাবী করে নিজ দখলে নিয়ে নেয়। অন্যদের জমি অন্যায়ভাবে দখলের কাজে ব্যবহার করেন তার বড় ছেলে সাজেদুল ইসলাম ওরফে ফাহাদ ও তার বখাটে বন্ধুরদের। কিন্তু আদালতের রায় পাওয়ার পরে নিজেদের নামে নামজারী করে ও জমিটির দখল বুঝে পাচ্ছেন না রাসেল মাহমুদ গংরা। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলের দ্বারস্থ হয়েও কোন সুফল পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী রাসেল গংরা।

বর্তমানে সিরাজুল ইসলাম ওমরের একাধিক হুমকির কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে রাসেল গংরা। তাই শান্তি প্রিয় এলাকাবাসী এই সন্ত্রাসী, ফুটপাতের চাঁদাবাজ ও নব্য ভূমি দস্যু সিরাজুল ইসলাম ওমর এবং তার অনুসারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট।

 

এই জাতীয় আরো খবর

Back to top button