খাদ্য ও পুষ্টিঢাকাসারাদেশ

পাকুন্দিয়া উপজেলায় দুই শত বছর ধরে মঙ্গলবাড়িয়া লিচুর আবাদ

কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ বাজারে অনেক জাতের লিচু থাকা সত্বেও সবার নজর মঙ্গলবাড়িয়ার লিচুর দিকে। এ লিচুর ফলন প্রচুর ও কদর বেশি। রসে ভরপুর,স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। আকারে বড় অথচ বীচি ছোট। ঠিক যেন রসগোল্লা। এ লিচুর নাম মুখে আসলেই জিভে পানি এসে যায়।খেলে পরে তৃপ্তি মিঠে যায়।রসালো,সুমিষ্ট,সুন্দরগন্ধ ও গাঢ় লাল রঙের বৈশিষ্ট্যের কারণে মঙ্গলবাড়িয়ার লিচুর খ্যাতি দেশজুড়ে।কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌর এলাকার পূর্ব-দক্ষিণে অবস্থিত ছোট্ট গ্রাম মঙ্গলবাড়িয়া।আর এই নামেই লিচুর নাম হয়েছে ‘মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু’।বৈশাখের শেষ দিকে পাকতে শুরু করে মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু।আবহাওয়ায় অনুকূল থাকায় এবার এ লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে।এই সময়টাতে গ্রামে প্রবেশের মুখে চোখে পড়ে সারি সারি লিচু গাছে সিঁদুর রঙের থোকা থোকা লিচু। বাতাসের তালে,গাছের পাতার ফাঁকে দুলছে সিঁদুরে লাল লিচু।প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনা,ঘরের পাশে এবং রাস্তার ধারে সারি সারি লিচু গাছ দেখেই বুঝা যায় এটি মঙ্গলবাড়িয়া গ্রাম। গ্রামের প্রায় সবার বাড়িতেই রয়েছে ৮/১০টি বা তার চেয়েও বেশি লিচু গাছ। মঙ্গলবাড়িয়াসহ আশপাশের চার শতাধিক পরিবারে লিচু চাষই জীবন-জীবিকার অন্যতম উপায়।অন্যান্য ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি লিচুর আবাদ করে এই গ্রামের মানুষ পেয়েছেন সচ্ছলতা, বদলে গেছে তাদের জীবন।

স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জানা যায়, প্রায় দুইশ’ বছর ধরে এখানে লিচুর আবাদ হচ্ছে।সুদূর চীন থেকে এই গ্রামেরই এক পুলিশ কর্মকর্তা প্রথম এর বীজ নিয়ে আসেন তার গাছের লিচু খেয়ে গ্রামের কয়েকজন শখের বশে এ লিচুর আবাদ করেছিলেন। পরে কলম পদ্ধতিতে সারা গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এ লিচুর আবাদ।আবার কারো কারো মতে, গ্রামের মঙ্গল শাহ নামের এক ব্যক্তি ভারতের কোন এক স্থান থেকে লিচুর চারা এনে তার বাড়ির আঙিনায় রোপন করেন। সেখান থেকে অন্যান্য গ্রামবাসী গাছের শাখায় কলম করে লিচু চাষ সম্প্রসারণ করেন।এভাবে ধীরে ধীরে এলাকায় লিচু চাষের প্রসার ঘটে।

তারা আরো জানান মঙ্গলবাড়িয়ার লিচুর জন্য দূর-দূরান্তের সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা ছুটে আসছেন প্রতিদিন।গাছে ফুল আসার সাথে সাথেই বেপারি বা পাইকাররা লিচু বাগান কিনে নিচ্চেন। আর লিচু পাকার পর তা চালান করে দেন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু এখন দেশের বিভিন্ন শহর ও নগরে ছড়িয়ে পড়েছে। লিচুর মৌসুমে সৌখিন অনেকেই গাড়ি হাঁকিয়ে চলে আসেন মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে লাল টুকটুকে লিচু সংগ্রহ করতে।

চাষীরা জানান, মৌসুম শুরুর আগেই অনেকে লিচুর জন্য আগাম টাকা দিয়ে রেখে যান। দেশ-বিদেশে থাকা এ গ্রামের আত্মীয়স্বজনেরাও লিচুর মৌসুমের জন্য মুখিয়ে থাকেন। লিচু পাকার সময়ে তারা ছুটে আসেন স্বজনদের বাড়িতে ।মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে ৪০০-৫০০ চাষীর অন্তত ছয় থেকে সাত হাজার লিচুগাছ আছে। কোন কোন লিচুগাছ এক থেকে দেড় লাখ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হচ্চে। আর কদিন পরেই লিচু বিক্রির ধুম পড়বে বলে চাষীরা জানান।

ব্যবসায়ীরা জানান,এ লিচুর বাজারে চাহিদা বেশি।আকারে বড় বড় লিচু।লিচু বাজারে নেওয়ার ষাথে সাথে ক্রেতারা ভীড় জমায় এবং কে বেশি দাম দিয়ে কে আগে নিয়ে যাবে প্রতিযোগিতায় নেমে যায়।ফলে আমাদেরও ভাল একটা ব্যবসা হয়।

পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ জানান,লিচুর জন্য মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের মাটি খুবই উপযুক্ত।তাই মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু স্বাধে ও গন্ধে অতুলনীয়।বিভিন্ন বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।কৃষি বিভাগের পরামর্শে লিচু গাছের পরিচর্যা করায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে।চলতি বছর এ উপজেলায় ১শ ৫০ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে।

এই জাতীয় আরো খবর

Back to top button