ধর্মরংপুরসারাদেশ

ফুলছড়িতে এবার ১৯টি মন্দিরে পূঁজা অনুষ্ঠিত হবে

রিপন মিয়া ফুলছড়ি প্রতিনিধিঃ

রাত পোহালেই পূঁজা শুরু। ইতিমধ্যে এ সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। শেষ হয়েছে প্রতিমা তৈরি কাজ চলছে কেনা কাটার ধুমধাম। সনাতন (হিন্দু) ধর্মাম্বলীদের বছরের সব চেয়ে ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে শারদীয়া শ্রী শ্রী দূর্গা দেবীর পূঁজা অর্চনা। আজ ১১ অক্টোবর মহা ষষ্টির মধ্যদিয়ে পূঁজা শুরু।

আর তাই বেশ কয়েকদিন ধরেই স্থানীয় বা দুর-দুরান্ত থেকে আসা মৃৎশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কাজে। এর ব্যতিক্রম নেই গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। বিশ্বব্যাপী মহামারী কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস বৃদ্ধি শিথিল হওয়ায় পূঁজা অর্চনাকারী এবং মৃৎশিল্পীদের কাজের ব্যস্ততা বেড়েছে। কেনাকাটা, প্রতিমা বা মন্দির সাঁজানো, অতিথি আপ্যাায়নের প্রস্তুতি ইত্যাদি। তথ্যানুসারে ফুলছড়ি উপজেলায় ১৯টি মন্দিরে পূঁজা হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে মৃৎশিল্পীরা রাত-দিন এক করে একের পর এক ফুটিয়ে তুলছেন দেবী দুর্গা, লক্ষি, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিকের প্রতিমা। বিভিন্ন পূঁজা মন্ডবে কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক শ্রদ্ধায় তিলতিল করে গড়ে তোলা হচ্ছে মহামায়া দেবী দুর্গাকে। শ্বারদীয়া দুর্গা পূঁজা ঘনিয়ে আসায় ফুলছড়ি উপজেলার পূজা মন্ডব গুলোতে দম ফেলার সময় নেই মৃৎশিল্প কারিগরদের। মহামারী করোনার ভয়াবহতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়েছে সব ধরনের পূঁজা সংশ্লিষ্ট উপকরণের দাম। তাই এবার খরচ একটু বেশি বলে জানান পূঁজা উদযাপনকারী সংশ্লিষ্টরা। প্রতিমা তৈরিতে মাটির কাঠামো নির্মাণের মূল কাজ ইতিমধ্যেই শেষ করেছেন মৃৎশিল্পীরা। এরপর রং তুলির আঁচড়ে প্রতিমা পাবে দৃষ্টি নন্দন রূপ।

মৃৎশিল্পীরা জানান, অনেক দিন পরে একটু মন খুলে কাজ করতে পেরে খুব ভল লাগছে। করোনা কালীন সময়ে সব ধরনের পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় এবার পূঁজায়ও ব্যাপক খরচ গুনতে হবে। আগামী ক’দিন সব ঠিকঠাক থাকলে যথা সময়ে কাজ শেষ করতে পারবো।

পূজা উদযাপন পরিষদ ফুলছড়ি থানা কমিটির সভাপতি শ্রী অশ্বিনী বাবু জানান, দেশে কোভিড-১৯ করোনা মহামারী প্রবণতা চলছে। ততাপিও সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে, এ বছর শারদীয় দূর্গা দেবীর পূঁজা অর্চনা করা হবে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ফুলছড়ি থানা কমিটি যথাযথ ভাবে সরকারের বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবে। আমরা চেস্টা করবো যাতে কোন পূঁজা মন্ডবে বিশৃংখলার সৃষ্টি না হয়। আমরা আশা করছি, স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে সর্বাত্বক সহযোগীতা পাবো। এছাড়াও প্রতিটি পূঁজা মন্ডবে নিজ নিজ দায়িত্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন, ২৪ ঘন্টা নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী বা ভলান্টিয়ার রাখা, স্বাস্থ্যবিধি যাতে করে উপেক্ষিত না হয় তার জন্য প্রতিটি মন্দির ও মন্দির প্রাঙ্গনে জন-সমাগম এড়িয়ে চলা, বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান দিয়ে হাত ধুয়া বা স্প্রে’র ব্যবস্থা গ্রহনে পূঁজা অর্চনা এবং উদযাপনকারী সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা রয়েছে বলেও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে ফুলছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাওছার আলী বলেন, পুলিশ বাহিনী প্রধানের নির্দেশনায় বরাবরের মতো এবারো শারদীয় দুর্গা পূঁজা বা উৎসবে সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে ফুলছড়ি থানা পুলিশের কঠোর নজরদারি থাকবে। ফুলছড়ি উপজেলা আইন শৃংখলা বাহিনী, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী সু-শৃংখল এবং শান্তিপূর্ণভাবে সনাতন ধর্মাম্বলীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দূর্গা দেবীর পূঁজা উদযাপনে সকল প্রকার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গেছে। সনাতন ধর্মীরা যেন, তাদের পূঁজা অর্চনা সু-শৃংখল এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে সমাপ্ত করতে পারেন এবং পূঁজা মন্ডব পরিচালনা এবং পূঁজা অর্চনাকারীগন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন, তার জন্যও প্রশাসন সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

এই জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button