ঢাকাবিশেষ প্রতিবেদনসারাদেশ

বাড়ি গাড়ী অর্থ সম্পদের পাহাড় গড়তেই মাদক ব্যবসায়ীদের স্বর্ণখনি-টঙ্গীর কো-অপারেটিভ ব্যাংকমাঠ বস্তি

মৃণাল চৌধুরী সৈকত সিনিয়র রিপোর্টারঃ শিল্পনগরী খ্যাত টঙ্গীর রেলওয়ে জংশনকে এক সময় ‘মাদকের ট্রানজটি’ বা টঙ্গীর বস্তিগুলোকে বলা হতো ‘মাদকের হাট’। ওই সময় এখানকার প্রতিটি বস্তিতে প্রকাশ্যে চলতো মাদকের রমরমা ব্যবসা।

২০০৪ সালে আর্ন্তজাতিক শ্রমিক নেতা এবং গাজীপুর-২ আসনের জনপ্রিয় সংসদ
সদস্য শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টারকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে একদল দুস্কৃতকারী। এরপর এ এলাকার মাদক ব্যবসায় স্থবিরতা নেমে আসে কিছুটা। পরবর্তীতে দেশব্যাপী প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও মাদকবিরোধী অভিযানে প্রথমসারীর নামমাত্র কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী নিজেদের গুটিয়ে নিলেও তাদের অনুসারী বা সহযোগীরাই এখন হয়ে উঠে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। টঙ্গী কো-অপারেটিভ ব্যাংক মাঠ বস্তিতে অতি-চাতুরতার সহিত এসব মাদক ব্যবসায়ীরা চালিয়ে যাচ্ছে সর্বনাশা মাদক ব্যবসা।

এসব মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে একাধিকবার ধরা পড়ে জেলে যাবার পর আইনের ফাঁক-ফোঁকরে বেরিয়ে এসে আবারো শুরু করে তাদের ব্যবসা। এসব ব্যবসায়ীদের অনেকেই কোটিপতি বনে যাওয়ার নতুন কিছু নয়। ইতিমধ্যে টঙ্গী শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী আইনশৃংখলা বাহিনীর সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হওয়ার পর এ ব্যবসার চিত্র কিছুটা পাল্টে যায়। পুরুষের চেয়ে নারী মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে দিনদিন। নারী মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের পরিবারের পুরুষদের বিভিন্ন ব্যবসা বা কাজে লাগিয়ে দিয়ে তারা নিজেরাই মাদকদ্রব্য বহনসহ ক্রয়-ক্রিয় শুরু করে।

এছাড়াও মাদকদ্রব্য বিক্রয়ে প্রত্যেক শীর্ষ নারী ব্যবসায়ীর জন্য সহযোগী হিসেবে ১০/১২ জন বিভিন্ন বয়সের নারী থাকে। শীর্ষ প্রত্যেক নারী মাদক ব্যবসায়ী বস্তিতে নোংরা পোষাকে বা পরিবেশে বসবাসের সুবাধে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে। রাতে সেই মাদক বিক্রির টাকা নিয়ে অন্যত্র তৈরি করা বিলাসবহুল বাড়িতে বসবাস করে গ্রেফতার এড়াতে। আজ এক আলীশান বাড়ি, তো কাল অন্য আলীশান বাড়িতে গিয়ে স্বামী সন্তান নিয়ে রাত্রি যাপন করনে এসব মাদক ব্যবসায়ীরা। এদের মধ্যে দু-একজন নিজেদের নির্দোষ বা মাদক ব্যবসা করেন না দাবী করে
বস্তিতেই বসবাস করে থাকেন। এবং অত্যন্ত শর্তকতার সহিত চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসা। এসব নারী মাদক ব্যবসায়ীদের প্রায় প্রত্যেকের রয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ, সম্পদ, গাড়ি-বাড়ি। কারো বাপের বাড়ি, কারো শ্বশুড় বাড়ি কারো কারো অত্র গাজীপুর, টঙ্গী, পূবাইল, উত্তরা এলাকায়। তবে এসব মাদক ব্যবসায়ীরা খুব সতর্কতার সঙ্গে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন। অপরিচিত কারও কাছে মাদক বিক্রি করেন না বললেই চলে। ইতিপূর্বে এসব মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও টনক নড়েনি আইনশৃংখলা বাহিনীর। বরং কতিপয় পুলিশ সদস্য এসব ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে স্থানীয় এক যুব নেতার মাধ্যমে নিয়মিত বকরা আদায় করে থাকে বলেও একাধিক সূত্রে জানা যায়।

এছাড়া ওইসব ব্যবসায়ীদের শেল্টারদাতা বা ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন বিপদে সহযোগীতাকারী স্থানীয় কতিপয় ওই যুব নেতা নামধারী যুবকদের রোষাণলে পড়তে হয়েছে একাধিক সংবাদকর্মীদের বিভিন্ন সময়।

দৃশ্যপট : টঙ্গীর কো-অপারেটিভ ব্যাংক মাঠ বস্তি। কেউ এক যুগ, কেউবা দেড় যুগ আবার কেউ কেউ কয়েক যুগ ধরে এ বস্তিতে বসবাস করে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের মাদক ব্যবসা। এমন ৬ জন শীর্ষ ব্যবসায়ীর মধ্যে প্রথমেই যার নাম আসে তিনি হলেন,   মোমেলা বেগম (৪০)। তিনি এই মাদক ব্যবসা করে গড়ে তুলেছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ। জানা যায়, মোমেলা বেগম তার মাদক বিক্রির টাকায় ৪৭ নং ওয়ার্ডের মরকুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন কুদ্দুস খলিফা রোডে ‘জাহিদ হাসান ভিলা’ নামে একটি বহুতল বিলাস বহুল বাড়ি করেছেন। একই ওয়ার্ডের শিলমুন পূর্বপাড়া যোগিবাড়ি রোডে মাতৃকোল সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির স্বপন মাস্টারের কাছ থেকে কিনেছেন প্রায় কোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ি। পুবাইলের করমতলা পূর্বপাড়া আবাসিক এলাকায় পৌনে ৪ কাঠা জমির ওপর একটি আধাপাকা বাড়িও রয়েছে তার। ব্যাংক মাঠ বস্তিতে রয়েছে একাধিক আধাপাকা ঘর। মোমেলা তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলমকে কিনে দিয়েছেন ৩টি মিনি ট্রাক ও ২ সিএনজি। মেয়ে জামাই পুলিশের কথিত নামধারী সোর্স এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুবাইল থানাধীন ভাদুন গ্রামের স্থায়ী এবং বর্তমানে তালটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মিজান সরকারের ও ওই এলাকার শীর্ষ ইয়াবা ও ফেন্সিসিডিল ব্যবসায়ী সোনিয়ার ছেলে এবং টঙ্গীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মোমেলার মেয়ের জামাই মাদক ব্যবসায়ী ইয়াছিন সরকার প্রকাশ ওরফে হৃদয় ওরফে পিসি হৃদয়কে (২৬) কিনে দিয়েছেন ২০ লাখ টাকা দামের একটি প্রাইভেটকার। সম্প্রতি ওই প্রাইভেটকারে নিয়ে মাদকের হাট নামে পরিচিত ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানার দাঁতমারা

ইউনিয়নের শান্তিরহাট বাজার এলাকায় একটি বেকারীতে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে তার সহযোগী ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও থানার ধোপঘাট এলাকার মৃত ওয়াজ উদ্দিন সরকারের ছেলে জয়নাল আবেদিন জয় (৩০), জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার নয়াপাড়া এলাকার মৃত রহমত উল্যাহ ওরফে তাঁরা মিয়ার কন্যা পারভিন আকতার লিমা (২৮) ও ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানার বালিয়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং গাজীপুর জয়দেবপুরের নাওজোড়ের সুরুজ আলী মাতবরের মেয়ে বিলকিস আকতার রুবী (২৫) ধরা পড়ে জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে আসে। এই মোমেলা বেগম মাদক মামলায় একাধিকবার জেল খেটে জামিনে বের হয়ে বস্তিতে গিয়ে উঠলেও রাত্রি যাপন করেন একেক দিন একেক আলীশান বাড়িতে। আবার রাত পোহালে চলে আসেন বস্তিতে এবং আনোয়ার, ময়ুরী, সুমন, কল্পনা, পক্কিও বউ, সালমাসহ ৮/১০ জন নারী ও পুরুষ সেলম্যান দিয়ে চালিয়ে যান মাদক ব্যবসা। সূত্রটি জানায়, ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত
মোমেলার বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব থানা, গাজীপুর ডিবি, র‌্যাব ও গাজীপুর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে ১৭টি মাদক মামলা হয়েছে।

দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যবসায়ী হিসেবে যার নাম আসে তিনি হলেন, ব্যাংক মাঠ বস্তির আরেক মাদক ও জুয়াড়ী ময়না বেগম, যাকে সবাই নেত্রী ময়না নামে চিনে থাকে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টঙ্গীসহ রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে নামিদামি গাড়িতে চড়ে ময়না বেগমের কাছে আসেন মাদক সেবীরা। পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে ময়না বেগম তার ভাই শফিকুলকে দিয়ে মাদকের চালান এনে তা বুঝিয়ে দেন তার একাধিক সেলম্যানের কাছে। ফলে বিভিন্ন সময় পুলিশের অভিযানে মাদকসহ ময়নার সহযোগীরা গ্রেফতার হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান শীর্ষ জুয়াড়ী মাদক ব্যবসায়ী ময়না।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ময়না বেগমের পুরো পরিবার মাদক ব্যবসায় জড়িত। ময়নার মেয়ে নার্গিস আক্তার প্রশাসনের তালিকাভুক্ত অন্যতম শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় রয়েছে অন্তত ডজন খানেক মাদক মামলা। একাধিকবার র‌্যাব ও পুলিশের হাতে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছে এই নার্গিস। ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী নার্গিস তার শ্বশুড় বাড়ি ময়মনসিংহ এলাকায় বিপুল পরিমান অর্থ-সম্পদসহ টঙ্গীর শিলমুন ও মরকুনে নামে বেনামে জমি করেছেন। সম্প্রতি নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে রেখেছেন তার ব্যবসা থেকে।

কারণ হিসেবে জানা যায়, একাধিক মাদক মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে তার ব্যবসায় ধ্বস নামে। ততাপিও থেমে নেই ব্যবসা, তিনি তার মা নেত্রী ময়না ও ছোট ভাই তাজুলের বউ রোজিনাকে দিয়ে ব্যবসাটি পরিচালনা করছেন এখন। নেত্রী ময়না জুয়ার আসরে জীবনের উপার্জিত অর্থ শেষ করায় কিছু করতে না পারলেও স্থানীয় বস্তিবাসীদের একাংশের নেতৃত্ব দিয়ে নিজের ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ময়না বেগমের ভাই শফিকুল ইসলাম টেকনাফ থেকে ইয়াবার চালান আনতে গিয়ে কক্সবাজার পুলিশের হাতে ৬ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন। এই মামলায় ২৬ মাস জেলে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে আসেন। জামিনে বেরিয়ে আসার পাঁচ মাস পর আবারো ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন শফিকুল। বর্তমানে শফিকুল ঢাকার কেরানীগঞ্জ জেল হাজতে রয়েছেন।

একটি বিশেষ সূত্র জানায়, ব্যাংক মাঠ বস্তির বিভিন্ন মুখে (পয়েন্টে) রয়েছে ময়না বেগমের বেতনভুক্ত পাহারাদার। প্রশাসন কিংবা সন্দেহভাজন কোনো লোকজন বস্তিতে প্রবেশ করলে সেই খবর পৌঁছে যায় ময়নার কাছে। ফলে তিনি থেকে যান ধরাঁছোয়ার বাইরে। ময়না বেগমের মাদক বিক্রির প্রধান সেলম্যান হলেন, রানী ও রানীর ছেলে রাব্বানি।

গত (২৯ মে) ব্যাংক মাঠ বস্তিতে ইয়াবা বিক্রির সময় ২০পিচ ইয়াবাসহ রাব্বানীকে গ্রেফতার করেন টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ। এছাড়াও ময়না বেগমের ছেলে তাজুল ইসলাম তাজু ও তার বউ রোজিনা বস্তির অন্যতম শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তাইজুলের বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মামলা। ময়না ও তাজুল এবং তাজুলের বউ রোজিনা বেগমের মাদক বিক্রির টাকায় গাজীপুর ও মাদারীপুরে গড়ে তুলেছেন কয়েক কোটি টাকার সম্পদ। এসব সম্পদ নিজেদের নামে না কিনে আত্মীয়স্বজন ও শশুরবাড়ির লোকজনের নামে করেছেন বলে একাধিক সূত্র জানায়।

টঙ্গীর শিলমুন জাম্বুরেরটেক এলাকায় তাজুল ইসলাম তার শশুর সোলেমান ফরাজির নামে কিনেছেন ৮.৫৯ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত একটি টিনসেড বাড়ি। মাদারীপুর শহরে ছয়তলা বাড়ি, মাদারীপুরের শিবচরের হিন্দুপাড়ায় রয়েছে কয়েক বিঘা জমিসহ বিপুল পরিমান অর্থ সম্পদ। এ ছাড়া গাজীপুর ও টঙ্গীতে রয়েছে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ।

এব্যাপারে ময়না বেগমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আগে একসময় জড়িত ছিলাম। ১০-১২ বছর যাবৎ নাই। আমার পরিবারের কেউ এখন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না। ময়না বেগম বলেন, আমার মেয়ে নার্গিস এক সময় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। সে এখন ব্যবসা করে না। আর আমার ভাই কক্সবাজারে ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়ে জামিনে ছিলো। বর্তমানে আরেক মামলায় কারাগারে আছে। তৃতীয় শীর্ষ তালিকায় যার নাম আসে তিনি হলেন, ময়মনসিংহ্যা আফরিনা ওরফে আফরিনা বেগস। এলাকায় তিনি জামালের বউ নামেও পরিচিত। অত্যন্ত চতুর এ নারী মাদক ব্যবসায়ী। কথিত আছে, টঙ্গীর কোথাও ফেন্সিডিল পাওয়া না গেলেও আরফিনার কাছে সব সময় তা পাওয়া যায়। মাদক ব্যবসার কাজে আরফিনাকে সহযোগীতা করেন তার ভাই শ্রাবণ ও স্বামী জামাল।
বস্তিতে বসে দেদারছে মাদক কারবার চালিয়ে গেলেও গত তিন বছরে আরফিনাকে আইনশৃংখলা বাহিনী রহস্যজনক কারণে একবারও আটক করতে পারেনি। স্থানীয় অসাধু কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কয়েকজন নেতাকে নিয়মিত মাসোহারার বিনিময়ে আরফিনা হয়ে উঠেছেন এলাকার শীর্ষ ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী। আফরিনা বেগম তার সেলম্যান টুক্কু, শারমিন, কাকলী, রকি, নাসিরের বউ, সজিব ও পারুলীসহ আরো কয়েকজনকে দিয়ে তার মাদকদ্রব্য বিক্রি করে ইতিমধ্যে শ্রীপুরের কাওরাইদ, নরসিংদীর পলাশ, পূবাইলের তালটিয়া এবং পূবাইল কলেজের পিছনে বহুতল বাড়িসহ নামে বেনামে বিপুল পরিমান জায়গাজমিসহ একাধিক পিকআপ ও সিএনজির মালিক হয়েছেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, আফরিনা ও তার স্বামীর নিয়ন্ত্রণে এলাকায় রয়েছে একটি শক্তিশালী মোবাইল চোর সিন্ডিকেট। বর্তমানে তিনি মোমেলার সাথে পাল্লা দিয়ে ব্যবসা করছেন বলেও জনশ্রæতি রয়েছে। এক সময় তিনি নেত্রী ময়নার মেয়ে শীর্ষ ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী নার্গিসের সহযোগী ছিলেন বলেও কতিথ রয়েছে। তার নামেও একাধিক মামলা রয়েছে।

চতুর্থ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হলেন সোহেল। সোহেলের রয়েছে টঙ্গীর পাকনা পাড়া এবং নরসিংদীতে ৪ তলা বাড়ি। সে তার সেলম্যান তানিয়া ও রিপনকে দিয়ে অতি কৌশলে ব্যবসাটি পরিচালনা করে থাকেন বলে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়। সর্বপরি শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যার নাম আসে তিনি হলেন রত্না আক্তার। রত্না আক্তার নিজে এবং তার সেলম্যান তাজি, টুনটুনি, রোকশানা, আনোয়ারসহ ৬/৭ জন সেলম্যান দিয়ে দেদারসে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও কো-অপারেটিভ ব্যাং মাঠ বস্তির একটি অংশ জুড়ে রয়েছে পতিতালয়। ছোট ছোট ১০/১৫ টি কুঁড়েঘরে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মাদকসেবী বা নারীলোভীদের আস্তানা ওই কুঁড়ে ঘরগুলোতে দিন রাত ২৪ ঘন্টা চলে হরদম দেহ ব্যবসা। আর এই দেহ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সেলিনা নামের এক সর্দারনি। বস্তির ওই যুব নেতার ছোট ভাইয়ের শ্বাশুড়ি হওয়ার সুবাধে তিনি বেশ দাপটের সাথে এ ব্যবসাটি চালিয়ে যাচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্রে আরো জানা যায়, এসব মাদক ব্যবসায়ীরা কক্সবাজারের টেকনাফ অথবা মাদকের হাট নামে পরিচিত ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানার দাঁতমারা ইউনিয়নের শান্তিরহাট বাজার এলাকা থেকে ইয়াবার বড় চালান ও দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী বি-বাড়িয়া আখাউড়া, কুমিল্লার দাউদকান্দি ও গৌরীপুরসহ রাজশাহী অঞ্চল থেকে ফেন্সিডিলের চালান গাজীপুর সদর ও টঙ্গীসহ টঙ্গীর ব্যাংক মাঠ বস্তি, পূবাইল, উত্তরার বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়ে আসেন মোমেলা বেগম, নেত্রী ময়না বেগম, শফিকুল ইসলাম, আফরিনা বেগম, রোজিনা বেগম, সোহেল মিয়া, রত্না আক্তারেরা। জনশ্রুতি রয়েছে বস্তিতে বসবাসের সুবাধে এক এক নাবালিকাকে অপহরণ করে বিয়ে করা ওই যুব নেতার সহযোগীতা নিয়ে এবং প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে চলছে এসব মাদক ব্যবসায়ীদের মাদক সাম্রাজ্য।

এ বিষয়ে জানতে মোমেলার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন মাস চারেক আগে। সবাই জানে, ব্যাংক মাঠ বস্তির প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু ঘুরে ফিরে শুধু আমার নামেই মামলা হয়। আমিতো তিন-চার মাস আগে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছি। সম্পদের বিষয়ে মোমেলা বলেন, টঙ্গীর মরকুনের বাড়িটি আমার নামে নয়। ওই এলাকার স্বপন মাস্টারের কাছে টাকা পাওনা ছিল, তাই তার কাছ থেকে বাড়িটি আমার মা লতিফা বেগমের নামে কিনেছি। পুবাইলের বাড়িটি আমার স্বামী জাহাঙ্গীর জমি বিক্রি করে কিনেছেন। একটা প্রাইভেটকার কেনা হয়েছে মা লতিফা বেগমের নামে, যার নমিনি আমি-মালিক নই আমি, সেটি আমার মেয়ের জামাই চালায়। এ ছাড়া একটি পিকআপ ও সিএনজি কিস্তিতে কেনা হয়েছে, যা আমার স্বামী দেখাশোনা করেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ- দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ বলেন, বস্তির মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যপারে তথ্য সংগ্রহ চলছে। প্রত্যেকের নামে একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে। খুব শিগগির মাদকবিরোধী অভিযান করা হবে। এ ছাড়া খুব শীঘ্রই কো- অপারেটিভ ব্যাংক মাঠ বস্তিকে সিসি ক্যামেরার আওয়ায় নিয়ে আসা হচ্ছে। আমরা নিয়মিতই মাদকসহ মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

এই জাতীয় আরো খবর

Back to top button