ঢাকাবিশেষ প্রতিবেদনসারাদেশ

বিলীনের দ্বারপ্রান্তে বাঁশের তৈরি হস্তশিল্প

মোঃ মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া, নরসিংদী প্রতিনিধি

বাঁংলার ঘরে ঘরে আগে এমন কিছু জিনিস পাওয়া যেত,যেগুলি এখন নাম শোনা গেলেও দেখা পাওয়া দুস্কর। অথচ এই ঐতিহ্যবাহী জিনিসগুলি বছরের পর বছর ধরে বাংলার সংস্কৃতির এক একটি উপাদান ৷ বাংলার ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক ৷ যেগুলি বাংলার গৃহস্থের সচ্ছলতা ও সুখসমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে প্রচলিত ছিল ৷ দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে এইসব হস্তশিল্প ৷ আগের মতন তেমন একটা চোখে পড়ে না এসব পন্য ৷ এক সময় আমাদের পলাশে বাঁশের তৈরি এই জিনিসের অনেক প্রচলন ছিল ৷ তখন প্রতি বাড়িতেই গেলে কিছু না কিছু হস্তশিল্প নজরে আসতো ৷ কিন্তু বর্তমানে তা নেই বললেই চলে ৷

বর্তমানে কিছু পরিবার এসব হস্তশিল্পের কাজ ধরে রেখেছে ৷ আমরা চাইলেই পারি এই হস্তশিল্প ধরে রাখতে তাদের পন্য ব্যবহার করে। সাধারণত গ্রামের লোকেরা এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত এবং বেশির ভাগ তারাই এসব ব্যবহার করে। কুলা,মাথলা,ঝুড়ি, ওড়া, মাচা, মই, মাদুর, ঝুড়ি, ফাঁদ, হস্তশিল্প ইত্যাদি ছাড়াও মৃতদেহ সৎকার ও দাফনের কাজেও বাঁশ ব্যবহূত হয়।

বাঁশকে দরিদ্র মানুষের দারুও বলা হয়। নিত্য ব্যবহার্য এই বাঁশ কালক্রমে লোকসংস্কৃতি ও কারুশিল্পের প্রধান উপকরণ হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে প্রায় ২৬ প্রজাতির বাঁশ পাওয়া যায়।তারমধ্যে মুলিবাঁশ, তল্লাবাঁশ ও বইরা বাঁশ দিয়ে শিল্পকর্ম করা সহজ। বাঁশের তৈরি এই শিল্প দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী ছাড়াও আদিবাসীদের জীবনাচরণ প্রতীক। আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে বাঁশের তৈরি শিল্পকর্ম দীর্ঘস্থায়ী না হলেও লোকজীবনে ব্যবহারের বহুমাত্রিকতা ও প্রয়োজনের কারণে এই শিল্পকর্ম বংশপরম্পরায় চলে আসছে দীর্ঘ সময় ধরে।

পলাশে রাবান,বরাব,কুড়ইতলি,গোপিরায়েরপাড়া ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে যানা যায় তাদের পূর্ব পুরুষরাও নাকি এ কাজের সাথে জড়িত ছিল ৷ তাদের কাছ থেকেই তারা কাজ শিখেছে ৷

তারা জানান বর্তমানে প্লাষ্টিক পন্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি ৷ কারণ তা তুলনামূলক দাম কম ও আর্কষনীয় ৷ যে কারনে তাদের তৈরি পন্য বাজারজাত হয় কম ৷ অনেকে এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে ৷ বর্তমানে এ পেশায় কাজ করা তাদের জন্য দায় হয়ে দাড়িয়েছে ৷ যারা অন্য কোন কাজ পারেনা তারা এ কাজ ছাড়া ৷

এই জাতীয় আরো খবর

Back to top button