বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২০

মানিকগঞ্জে পদ্মা ও যমুনায় পানি বেড়ে নিচুঁঅঞ্চল প্লাবিত

bonna

মানিকগঞ্জে উজান থেকে আসা ঢল এবং গত কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার যমুনা ও পদ্মায় অস্বাভাবিক হারে পানি বেড়েছে।

এর ফলে গত ১২ ঘণ্টায় জেলার শিবালয় উপজেলায় যমুনা নদীতে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী নতুন নতুন এলাকায় বিশেষ করে নিচুঁ অঞ্চলগুলো প্লাবিত হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ পাউবোর পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) ফারুক আহমেদ আজ বুধবার সকালে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে মানিকগঞ্জেরও নদ-নদীতে পানি বাড়ছে। জেলায় বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফারুক আহমেদ আরো জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিবালয়ের আরিচা পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ৯ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার ছিল, যা বিপৎসীমার মাত্র পাঁচ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

অব্যাহতভাবে পানি বাড়ায় আজ সকাল ছয়টায় সেখানে পানির উচ্চতা ছিল ৯ দশমিক ৬৫ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অর্থাৎ গত ১২ ঘণ্টায় আরিচা পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ২০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদীতেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ঘাট এলাকার যমুনা নদীর সঙ্গে এই নদীর সংযোগ রয়েছে। পাটুরিয়া থেকে হরিরামপুরের ওপর প্রবাহিত হয়ে এই নদী ভাটিতে মিশেছে।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, হরিরামপুরের রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বকচর,জগনাথপুর,ভাওয়ারডাঙ্গী, বাহিরচর গ্রামের আংশিক।বয়ড়া ইউনিয়নের দড়িকান্দি,খালপাড় বয়ড়া,দাসকান্দি বয়ড়া,আন্ধারমানিক গ্রামের আংশিক।

হারুকান্দি ইউনিয়নের ভেলাবাদ, হারুকান্দি চরাঞ্চল, চানপুর গ্রাম সহ আশপাশের কিছু এলাকা।গোপীনাথপুর ইউনিয়নের চড়পাড়া, উজানপাড়া, ভাটিপাড়া, বাহাদুরপুর, ছোট বাহাদুরপুর গ্রাম সহ আংশিক এলাকা।

কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের চরে ৮০ পরিবার পানি বন্দি, সূত্রাকান্দি, বৌদ্ধকান্দি, কুশিয়ার চর কোটকান্দি নিম্নাঞ্চল। চালা ইউনিয়নের দিয়াবাড়ী, হাসমিলান, দুর্গাপুর, কামারঘোনা, গোপালপুর গ্রাম সহ আশপাশের এলাকা।

গালা ইউনিয়নের, কালই, গোপালপুর, ধুসুরিয়া, গাং ধুসুরিয়া, ৬আনি গালা, গালা, বাঙ্গালা, বিজয়নগর, রাজার কলতা গ্রাম সহ আশেপাশের এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এছাড়া বালুরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দড়িকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এভাবে পানি বৃদ্ধি পেলে আজ রাতেই বিদ্যালয় গুলোর বারান্দায় পানি প্রবেশ করবে বলে জানা গেছে।

এদিকে রামকৃষ্ণপুর ও বয়ড়া ইউনিয়নের আলগীচর, বকচর, দড়িকান্দি গ্রামের গ্রামীণ রাস্তার বেশ কিছু অংশ ও পদ্মার বেঁড়িবাধের বেশ কিছু অংশ তলিয়ে যাওয়া সহ পদ্মার চরাঞ্চলের অধিকাংশ ফসলী জমি ও রাস্তা তলিয়ে গেছে।

এবিষয়ে মুঠোফোনে হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন জানান, হরিরামপুরে পানি বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার নদী তীরবর্তী সকল নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

তিনি আরো জানান, উপজেলা প্রশাসনের কাছে এখনো পর্যন্ত কেউ অনুদান চায়নি। তবে সরকারি অনুদান রয়েছে, যা প্রয়োজন মোতাবেক দেওয়া হবে। তবে ইতোমধ্যে বেসরকারি কিছু সংস্থার অনুদান, বন্যায় প্লাবিতদের মাঝে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

অপরদিকে দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম জানান, যমুনায় পানি বাড়ার ফলে উপজেলার বাচামারা, বাঘুটিয়া, চরকাটারী ও জিয়নপুর ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। অনেক এলাকায় বসতভিটায় পানি ঢুকেছে।

শুভংকর পোদ্দার/মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

0Shares