বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২০

রংপুরে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নাই কোরবানির পশুর হাটে : বাড়ছে করোনা ঝুঁকি

there is no plague of hygiene at the sacrificial animal market

বাহে যে গরম পরছে তার উপর হাজার হাজার মানুষ তাতে কি মাস্ক পরি নিঃশ্বাস বন্ধ হয়া মরিম! মাস্ক আছে পকেটোত। এভাবেই কথা গুলা বললেন নগরীর বুড়িরহাটে গরু বিক্রি করতে আসা বৃদ্ধ মকবুল হোসেন।
আফজাল মিয়া নামে আর একজনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কিসের বাহে মাস্ক? করোনা যদি হামার হয় তাইলে ঘরের ভিতর থাকলেও হইবে। মাস্ক আছে কিনা জানতে চাইলে অনেক জন রাগে বলেন, করোনা বড়লোকের অসুখ। হামারমত গরীব মানুষের হবার নেয়।
জেলার প্রায় সব হাটেই সরেজমিনে দেখা যায়, গতকাল গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি হাটে আসা প্রায় সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি ভাঙ্গার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, মুখে মাস্ক পরা এবং করোনাকালিন স্বাস্থ্যবিধি মানতে নারাজ।

পবিত্র ঈদ-উল-আজহার আর বাকি তিনদিন। ঈদ ঘনিয়ে আসায় সাথে সাথেই মানুষের ভিড় বেরেছে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে। হাটে আসা অনেকেই মাস্ক ছাড়াই এসেছে কোরবানির গরু-ছাগল ক্রয় এবং বিক্রয় করতে। তবে হাটে আসা মানুষের মধ্যে লক্ষ করা যায়নি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা।

বরং মুখে মাস্কহীন ও শারীরিক দূরত্ব বিধি লঙ্ঘন করে দিব্যি হাটে হাটে ঘুরছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। পশুর হাটে জনসমাগম দেখে বোঝায় উপায় নেই, করোনা ক্রান্তিতে ভুগছে দেশ।
প্রশাসন থেকে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে তৎপরতার কথা বলা হলেও বাস্তবে হাটের চিত্র উল্টো। গাদাগাদি করে হাটে গরু-ছাগলের সাথে মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি। সরকারি নির্দেশনা এবং হাট পরিচালনায় স্থানীয় প্রশাসনের বিধিনিষেধ মানছেন না কেউই।

রংপুর নগরীর সব হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের বেশির ভাগ মানুষই ছিল মাস্কহীন। আবার অনেকে মাস্ক পড়লেও তা সঠিক নিয়মে ছিল না। হাটে চলাফেরায় সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব চোখে পড়েনি।
হাটের মধ্যে মাইকিং করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বলা হলেও তা নিশ্চিত করতে দেখা যায়নি কোনো তৎপরতা।

বরং হাটের মধ্যে ব্যবসায়ী, খামারি, পাইকার ও দালালদের স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে স্বাভাবিকভাবে সমাগম করতে দেখা গেছে। একই অবস্থা ছিল বাজার পরিস্থিতি দেখতে ও কোরবানির পশু কিনতে আসা ক্রেতা সাধারণের মধ্যেও।

এদিকে কোরবানির ঈদকে ঘিরে নগরীর সবচেয়ে বড় গরুর হাট লালবাগ হাটের বর্ধিত অংশ কারমাইকেল কলেজের ভিতরে নেয়া হয়েছে। সেখানে গাছে গাছে বেঁধে রাখা হয়েছে গরু-ছাগল। তবে হাটে যে পরিমাণ গরু-ছাগল উঠেছে, সেই হিসেবে ক্রেতা সমাগম হয়নি।

খামারি ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে পশুর হাট জমে উঠবে। এখন যারা হাটে এসেছেন, তাদের বেশির ভাগ বাজার যাচাই করছেন।

অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি অমান্যের ব্যাপারে গরু ব্যবসায়ী আবুল হাশেম, মিলন মিয়া ও নূর হোসেন বলেন, এতো মানুষের ভিড়ে করোনার আতঙ্ক আছে। কিন্তু কিছু করার নেই। সবাইকে তো জোড় করে মাস্ক পড়ানো বা দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা সম্ভব না।

বাংলাদেশ সরকার বা প্রশাসন পরিশ্রম করছেন মানুষকে সচেতন করছে, কিন্তু মানুষ যদি সচেতন না হয় তবে কি আর হবে। এরকমটি বলছিলেন লালবাগ হাটে আসা মেজবাহুল মোকারবিন। তিনি হাটে গরু দেখতে এসেছিলেন।

আরও পড়ুনঃকোনো কিছু পাবার আশায় দল করিনি : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

লালবাগ হাটের ইজারাদার দুলু মিয়া বলেন, আমরা কিছুক্ষন পরপর হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সচেতন করছি। এছাড়াও হাটে করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি রোধে হাত ধোয়ার ব্যবস্থার পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছি।

এদিকে হাটের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর ছিলেন স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে । লালবাগ হাটে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানতে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন পুলিশ।

সবাইকে মুখে মাস্ক পরিধান করে হাটে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন তারা। এছাড়াও হাটে যাতে কোনো অপরাধ সংঘটিত না হয়, সেজন্য পুলিশ কাজ করছেন।

সিরাজুল ইসলাম বিজয়/রংপুর জেলা প্রতিনিধি

0Shares