খাদ্য ও পুষ্টিজীবনধারাঢাকাসারাদেশ

লকডাউন-রমজানে সবজির বাজার নাভিম্বাস

মিয়া মোহাম্মদ ছিদ্দিক,কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ নিত্যপণ্যের বাজারে দামের উত্তাপ এখনও থামেনি।লকডাউন ও রোজা শুরুর পর থেকে কাঁচাবাজারে নানা পণ্যের দাম বেড়ে চলছে।বেগুন,শসা,টমেটো ও লেবুর দাম দ্বিগুণ বেড়েছে।

এর মধ্যে বেগুন ও শসার কেজি এবং লেবুর হালির দামে হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।কম দামি টমেটোর দামও হাফ সেঞ্চুরি করেছে।ইফতারের উপকরণ হিসেবে এগুলোর কদর থাকায় দাম বাড়ানোর সুযোগ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

১৪ই এপ্রিল থেকে রোজা ও কঠোর লকডাউন শুরু হয়েছে।এই সুযোগে সবজির বাজারে দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কাঁচাবাজারে পণ্যের নির্ধারিত দর না থাকায় তদারকিতে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না বাজার মনিটরিং টিম এবং সরকার যেসব পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে,সেসব পণ্যও অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।এ ক্ষেত্রে জরিমানা করা হলেও ব্যবসায়ীরা বাড়তি দাম নিচ্ছেন।

কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখাযায়,ডিম,ভোজ্যতেল,চালসহ অন্য পণ্যের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়,গাজর ৬০ টাকা,শিমও একই দাম,করলা ৮০ টাকা,মুলা ৪০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা,টমেটো ৪০ টাকা,বরবটি ৬০ টাকা,লাউ আকারভেদে ২০/৩০টাকায়,মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা,পটল ৫০ টাকা,কচুর লতি ৬০ টাকা,সাজনা ৮০ টাকা,আলু বিক্রি হচ্ছে ২০/২৫ টাকা কেজি। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০/৪৫ টাকায়,কাঁচা কলার হালি ৩৫ টাকা,কাঁচা মরিচ কেজি ১০০টাকা,পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ টাকা,খিরা ৫০ টাকা,শসার দাম ৮০ টাকা,মটরশুঁটির কেজি ৬০ টাকা,লেবুর হালি ৮০
টাকা,রসুনের কেজি ৬০ টাকা,আদা ১০০ টাকা,হলুদ ২৪০ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৭০ টাকা, প্রতি কেজি বিআর-২৮ চাল ৪৮ টাকা, মিনিকেট ৬৫ টাকা,নাজির ৬৫ থেকে ৭০ টাকা,পোলাও চাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা।খোলা ভোজ্যতেলর লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা,ফার্মের ডিম ৩৫টাকা,হাঁসের ডিম ৪০টাকা,দেশি মুরগির ডিম ৫০ টাকা।সোনালি (কক) মুরগি ২৮০ টাকা ও ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৪৫ টাকা,লেয়ার মুরগি কেজি ২২০ টাকা,প্রতি কেজি খাসির মাংস ৭৫০ টাকা,গরুর মাংস কেজি ৫৫০ টাকা।

প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়,মাগুর মাছ ৬০০ টাকা,শিং ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা,মৃগেল ১৫০ টাকা,পাঙাস ১২০ টাকা, ইলিশ প্রতি কেজি ৮৫০ টাকা,চিংড়ি প্রতি কেজি ৬০০ টাকা,বোয়ালমাছ প্রতি কেজি ৫০০ টাকা,কাতল ২৮০ টাকা,ফোলি মাছ ৪০০ টাকা। সবজি ব্যবসায়ী সুরুজ মিয়া জানান,মাছ,মাংসসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বেশি থাকায় সবজির চাহিদা বেশি। পাইকারি বাজারে সকল পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।তাছাড়া করোনা মহামারির কারণে লকডাউনে কড়াকড়ি আরোপ
করায় বাজারে সবজির সরবরাহ কম।বিক্রি কম হলেও দাম চড়া।এতেও দাম বাড়ছে।

সাধারন ক্রেতারা জানান,রোজাদাররা সারাদিন শেষে রাতে খাবার ভাল খাওয়ার চেষ্টা করেন।আগে যেসবজি ৫০টাকায় কিনেছি,আজ সে সবজি ১০০ টাকায় কিনতে হচ্চে।লকডাউনে এমনিতেই আমাদের জীবন সংকটে, মূল্য বৃদ্ধির কারনে এখন বেচে থাকায় দুরুহ।

 

এই জাতীয় আরো খবর

Back to top button