জীবনধারারংপুরসারাদেশ

হত্যা না আত্মহত্যা এই আশংকার মধ্যে লিমা আক্তারের দাফন সম্পন্ন

গাইবান্ধা সংবাদদাতাঃ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ধর্মপুরে হত্যা না আত্মহত্যা এই আশংকার মধ্যে মৃত মেধাবী স্কুল ছাত্রীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এলাকাবাসী ও পরিবার এই ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যা দাবী করে বিক্ষোভ করে দারিয়াপুর-সুন্দরগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে ও হত্যা কান্ডের সঙ্গে জড়িত আসামীদের উপযুক্ত বিচার ফাঁসি দাবী করেছে।

সরেজমিনে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধর্মপুর গ্রামে গিয়ে দেখাযায় এলাকাবাসী হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে।

সুন্দরগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলা ও নিহত ছাত্রীর পরিবার সুত্রে জানাযায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে লিমা আক্তার (১৪) প্রাইভেট পড়ার জন্য স্থানীয় কোচিং সেন্টারে যায়। কিন্তু সারাদিন কোচিং থেকে বাড়িতে না ফিরে আসলে আত্মীয় স্বজনের বাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে খোজ খবর চলে। খোজ খবর চলাকালে স্থানীয় দুই ব্যাক্তি জানায় আজ সকালে তোমার মেয়ে সড়কে অসামাত্র ধর্মপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের পুত্র শাকিল আহম্মেদ তার ৩ সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে লিমাকে জোর পূর্বক সিএনজিতে তুলে গাইবান্ধা শহরের দিকে নিয়ে গেছে। ঘটনা জানার পর হতে গাইবান্ধা শহরসহ আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর করে না পাওয়ায় গত ৫ অক্টোবর সুন্দরগঞ্জ থানায় শাকিল আহম্মেদকে প্রধান আসামী করে ৪ জনের নামে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়।

অন্যদিকে মামলা দায়েরের পরে ১ নং আসামী পালাতক থাকলেও অন্য আসামীরা নিজ বাড়ীতে থেকে বিরদর্পে চলাফেরা করতে থাকে। আসামীরা নিজ বাড়িতে থেকে এলাকায় চলাফেরা করছে এই খবর মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সুন্দরগঞ্জ থানার এস আই মোঃ হারুন-অর -রশিদকে জানানো হলে তিনি আসামীকে আটক না করে আসামীদের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে আসামীর আত্মীয় স্বজনের নিকট হতে উৎকোচ নিয়ে বাদীসহ তার পরিবারের লোকজনকে ভয়ভিতি প্রদর্শন করে।

এদিকে মামলা দায়েরের পর আসামী আটকে পুলিশের অনিহার মধ্যে গত রবিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে লিমা আক্তারের পিতার মোবাইলে চট্রগ্রামের ইপিজেড থানা থেকে ফোন আসে তার মেয়ে সেখানে একটি বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এখবর পাওয়ার পরে লিমা আক্তারের পরিবারসহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চট্রগ্রাম থেকে লিমা আক্তারের লাশ তার নিজ বাড়ী সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধর্মপুরে আসলে এলাকাবাসী ও নিহত ছাত্রীর স্কুলের সহপাঠিরা বিক্ষোভে ফেটে পরে। এসময় বিক্ষোভকারীরা দাড়িয়াপুর-সুন্দরগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে সুন্দরগঞ্জ থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়ে তাদের উপস্থিতে লিমা আক্তারের বাড়ি চত্বরে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করে।

এঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত অপহরনকারী শাকিল আহম্মেদ ও তার জনৈক্য মামা পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার ধানীসাপা গ্রামের নুর হোসেনের পুত্র সোলাইমান হোসেনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে চট্রগ্রাম ইপিজেড থানা পুলিশ। পরে চট্রগ্রাম ইপিজেড থানা পুলিশ আসামীদেরকে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করলে থানা পুলিশ আজ বুধবার গাইবান্ধা কোর্টে প্রেরন করে।

মামলার তদন্তকারী এস আই হারুন অর রশিদকে টাকার বিনিময়ে আসামী গ্রেফতারের অনীহা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন আমি এই বিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে পারবো না। আপনারা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নিতে পারেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ উৎকোচ নিয়ে আসামী না ধরার অভিযোগের ব্যাপারে সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল্লা হিল জামান কে প্রশ্ন করা হলে তিনি টেলিফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন বিষয়টি আমার তেমন জানা নাই। তবে বিষয়টি আমাদের পুলিশ সুপার মহোদয় অবগত আছেন তিনি এই বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন।

এই জাতীয় আরো খবর

Back to top button