একটি ভাষণ ও জাতীয় মুক্তির সনদ

0
513

৭ ই মার্চ কথাটি শুনলেই মনের ভিতর জেগে উঠে একটি স্পন্দন। একটি বাজনা, একটি হুঙ্কার ও মুক্তির দমামা।মনে পড়ে যায় অসংখ্য প্রিয়জন হারানোর বেদনা ।

মানুষজন একটি দিনের ভাষণকে মনে করে ঝাপিয়ে পড়ে স্বাধীণতার নেশায়,ঝাপিয়ে পড়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করার সংগ্রামে। বৃটিশ শাসনের পর যখন আবারও শুরু হয় পাকিস্তানিদের শাসন ।

তখন জনতা মেনেই নিয়েছিল আর বুঝি নেই মুক্তি।পরাধিনতার শিকলে বুঝি আটকে থাকতে হবে সারা জীবন। বাঙালি জাতি হারিয়ে ফেলছিল তাদের অধিকার আদায়ের স্বাধীনত।

ভুলে গিয়েছিল নিজেদের পরিচয়।যে জাতি ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে ফিরিয়ে এনেছিল নিজেদের ভাষার স্বাধীনতা সে জাতি এখন আর সেই ভাষার ব্যবহারের পাচ্ছেনা কোন সুযোগ।

পাকিস্তানি শাসকগন কানদিক দিয়েই সহযোগিতা করছেনা এই বাঙালি জাতিকে। অত্যাচারের মাত্রা যখন ক্রমেই বেড়ে চলেছে বাড়তে বাড়তে যখন পরাধিন জাতির পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছে ঠিক তখনই বাঙ্গালি জাতির আশার বাতি হয়ে দেখা দেয় শেখ মুজিবুর রহমান নামের এক মহান নেতার, যাকে বাঙ্গালি আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নামে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বাঙ্গালি জাতিকে আকত্রিত করেন তাদের সামনে তুলে ধরেন দেশ স্বাধীনের প্রয়োজনিয়তা এই মহান নেতাকে সামনে পেয়ে আনন্দে আবেগে আপ্লুত হয়ে পরেন পুরো জাতি তার হুঙ্ককারের মধ্য দিয়ে জাতি ফিরে পায় বাঁচার স্বাধীনতা, তার একটি কথায় পুরো জাতিকে নাড়া দেয় ফিরে পায় প্রানের স্পন্দন।

“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” এই দুটি লাইনের মাধ্যমে বাঙ্গালি জাতির মনের ভিতর বেজে উঠে যুদ্ধের দামামা মনে জাগে দেশ স্বাধীন করার আকাঙ্খা।

তৈরি হতে থাকে শত্রুর মোকাবেলা করার। এবং ঝাপিয়ে পড়ে শত্রুর উপর একটি অসহায় নিপীড়িত জাতি না আছে তাদের কোন যুদ্ধের ট্রেনিং না আছে তাদের কোন অস্ত্র । খালি হাতে বিনা প্রস্তুতিতে ঝাপিয়ে পড়ে শত্রুর উপর। এমনও হয়েছে খালি হাতে দাঁড়িয়ে গেছে শত্রুর বড় বড় ট্যাংকের সামনে শুধু মাত্র মনের সাহস নিয়ে।

যে সাহস মনে সঞ্চয় করিয়েছে সেই মহান নেতার ৭ই মার্চের ভাষণে দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে লক্ষ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বাঙ্গালী জাতি খুঁজে পায় তাদের স্বাধীনতা।

১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর জনগন দেখেছিল পাকিস্তান বাহিনীর অসহায় আত্মসমর্পণের করুণ চিত্র। ৭ই মার্চের গুরুত্ব ও মর্ম আজও খুঁজে বেড়ায় বাঙ্গালী জাতিসহ পুরো বিশ্ব।

তাইতো গত ২০১৭ এর ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি প্রদান করে এই ভাষণকে। আজ ৭ই মার্চ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে পুরো জাতি ঐ মহান নেতাকে যার নাম কোনদিন মুছে ফেলা যাবেনা বাঙ্গালির ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে থাকবে একটি নাম, যেই নামটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here